

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে না দেওয়ার ঘটনার পর ভারতজুড়ে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে নিজেদের ম্যাচ খেলতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফলে ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্যত্র সরানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার মুখ খুলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে সূচি বা ভেন্যু পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। বিসিসিআই একে কার্যত ‘লজিস্টিক দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়নের অনুরোধ জানানো হতে পারে। উল্লেখ্য, এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হবে ৮ মার্চ।
বাংলাদেশ গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে।
তবে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এত অল্প সময়ে সূচি পরিবর্তন প্রায় অসম্ভব। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, “ইচ্ছামতো ম্যাচের ভেন্যু বদলানো যায় না। এতে শুধু একটি দল নয়, প্রতিপক্ষ দলগুলোর ভ্রমণ, হোটেল বুকিং, অনুশীলন সূচি—সবকিছুতেই বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।”
ওই সূত্র আরও জানায়, প্রতিদিন একাধিক ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে, যার মধ্যে একটি করে ম্যাচ শ্রীলঙ্কায়। সম্প্রচার সংস্থাগুলোর প্রস্তুতিও এতে জড়িত। ফলে বিষয়টি যত সহজে বলা যায়, বাস্তবে তা ততটা সহজ নয়।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর। আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের আগে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় কেকেআর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’ বিবেচনায় তাকে ছেড়ে দেয়।
এরপরই শনিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসে বিসিবি। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে আইসিসির কাছে বিষয়টি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি বিসিবিকে পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে আইসিসিকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার যদি চুক্তির আওতায় থেকেও ভারতে খেলতে নিরাপদ বোধ না করেন, তাহলে জাতীয় দলের ক্ষেত্রেও একই উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। সে কারণেই বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানাতে বলা হয়েছে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে কলকাতায়। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি নেপালের বিপক্ষে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন

