

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক সূত্র জানায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে রাজধানী কারাকাস থেকে সস্ত্রীক মাদুরোকে আটক করা হয়।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এক ব্রিফিংয়ে জানান, ২ জানুয়ারি স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে “অ্যাবসুলেট রিজার্ভ” নামের এই অভিযান শুরু হয়। কয়েক মাস ধরেই এ অভিযানের প্রস্তুতি চলছিল এবং নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা বাস্তবায়ন করা হয়।
ড্যান কেইনের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদুরো তখন একটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনায় অবস্থান করছিলেন। তাকে আটক করতে বিশেষ হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। হেলিকপ্টারগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আকাশে মোতায়েন করা হয় প্রায় ১৫০টি মার্কিন যুদ্ধবিমান। এসব বিমান ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
অভিযানের একপর্যায়ে ভেনেজুয়েলার সেনারা একটি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাতে সক্ষম হলেও সেটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং উড্ডয়ন অব্যাহত রাখে।
মার্কিন সামরিক প্রধান আরও জানান, রাত ২টা ১ মিনিটে বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা কারাকাসে মাদুরোর অবস্থানে পৌঁছায়। সেখানে মাদুরো ও তার স্ত্রী আত্মসমর্পণ করেন বলে দাবি করা হয়। প্রত্যাবর্তনের সময় মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তারা পাল্টা জবাব দেয়, তবে এ ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
অভিযান শেষে ভোর ৪টা ২৯ মিনিটের মধ্যে মাদুরোকে বহনকারী দলটি সমুদ্র এলাকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে তাকে একটি যুদ্ধজাহাজে তোলা হয়, যা পরবর্তীতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করে।
তবে অভিযানের সময় মাদুরোর প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড বা নিরাপত্তা বাহিনী কতটা সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি ড্যান কেইন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মাদুরো একটি সেফ রুমে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সফল হননি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এমনকি তিনি সেখানে ঢুকলেও শেষ রক্ষা হতো না, কারণ প্রয়োজনে সেই কক্ষের দরজাও ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি ছিল মার্কিন বাহিনীর।
মন্তব্য করুন

