

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পাকিস্তানের কাশ্মীরে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৩০
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ত্রিশ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় দু’শো জন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ভারতের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি-কে নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপটে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি বিক্ষোভকারীরা প্রথমে তাদের লক্ষ্য করে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পেট্রোল বোমাসহ অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে হামালা চালালে সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
মূলত দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে জেএএসি। গত শুক্রবার জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাওয়ালাকোট শহরে।
রাওয়ালাকোটের শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা কমিশনার সর্দার ওয়াহিদ খান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানান, রবিবার জেএএসি-এর সদস্যরা একটি হাসপাতালের মর্গের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে সংগঠনের আরেক সদস্যের মরদেহ রাখা হয়েছিল, যিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে জেএএসি-এর কর্মীরা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পেট্রোল বোমা এবং অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ছয়জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। তিনি আরও জানান, অভিযানে বহু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা এবং জেএএসি সমর্থকেরা সরকারি এই বর্ণনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের দাবি, বেসামরিক নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।
জেএএসি ঘোষিত ধর্মঘট ও বিক্ষোভের একদিন আগে এই সংঘর্ষ ঘটে। সংগঠনটি অঞ্চলটির আইনসভা নির্বাচনে ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২৭ জুলাই।
এদিকে জেএএসি-এর সদস্যরা তাদের ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করাকে ‘নিপীড়ন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, তারা কেবল জনগণের ন্যায্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের জন্যই আন্দোলন করছেন।
