শনিবার
০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাশ্মীর কখনো ভারতের অংশ ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না: পাকিস্তান

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাকিস্তান বলেছে, ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর কখনও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না। কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে নয়াদিল্লির দাবির জবাবে পাকিস্তান এ মন্তব্য করেছে।

পাকিস্তানের ‘রাইট অব রিপ্লাই’ প্রয়োগ করে দেশটির প্রতিনিধি গুল কায়সার সারওয়ানি এ বক্তব্য দেন। এর আগে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পারভাথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

জবাবে সারওয়ানি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এবং এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় রয়েছে।

তিনি বলেন, ইতিহাস, আইন এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতা কোনোভাবেই বদলানো যাবে না। জম্মু ও কাশ্মীর কখনও ভারতের অংশ ছিল না, এখন নয় এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ সাধারণ পরিষদে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুর গুরুত্ব আবারও উঠে এসেছে। তার মতে, উভয় বিরোধ জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ২০টিরও বেশি আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ জমা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে।

আসিম আহমেদের মতে, সাত দশকেরও বেশি সময় পরও কাশ্মীর ইস্যু নিরাপত্তা পরিষদের নজরে রয়েছে, যা এর গুরুত্বের প্রমাণ।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাশ্মীর বিরোধের ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন। সেই সমাধান হতে হবে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা এবং কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের ভিত্তিতে।

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশেষ করে গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। তিনি গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থনকারী নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান স্বাধীন, টেকসই ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে গঠিত সেই রাষ্ট্রের রাজধানী হবে আল-কুদস আল-শরিফ (পূর্ব জেরুজালেম)।

আসিম আহমেদ বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও বিশেষ রাজনৈতিক মিশনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান এসব কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, পর্যাপ্ত সম্পদসমৃদ্ধ এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতার ব্যবহার নিয়েও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন