

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেশজুড়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে তার দাফন-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। একই সঙ্গে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার বার্তাও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন।
দাফন কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে শিয়া মতাবলম্বীদের কাছে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়। ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’ স্লোগানে মুখর ছিল অনুষ্ঠানস্থল। পাশাপাশি খামেনির মুষ্টিবদ্ধ হাতের একটি বিশাল প্রতিকৃতিও প্রদর্শন করা হয়।
শনিবার ভোর থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে সমবেত মানুষ ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের ধ্বংস হোক’ স্লোগান দিচ্ছেন।
বৃহৎ এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে সাঁজোয়া যান, ভারী অস্ত্রধারী নিরাপত্তা সদস্য এবং স্নাইপার মোতায়েন করা হয়েছে। মোসাল্লায় প্রবেশের সময় আগতদের দেহ তল্লাশি করা হয়। এছাড়া পাওয়ার ব্যাংক, হেয়ারিং ডিভাইস ও আগুন জ্বালানোর যন্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদমাধ্যমের দাবি, সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ড ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সমর্থকদের আরও ঐক্যবদ্ধ ও উদ্দীপ্ত করেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে দেশটি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ১৯৮৯ সালের জানাজার মতো এবারও বিপুল জনসমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সে সময় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ সরিয়ে নিতে হয়েছিল।
এবারের অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য ভিড় ও তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধারসেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তাজনিত ঘটনা বা স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তেহরানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসিয়ে বেসরকারি যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

