

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা সংঘাত ও দীর্ঘ অচলাবস্থার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি-৭ সম্মেলন-পরবর্তী নৈশভোজে এ চুক্তিতে সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দুই পক্ষই জানিয়েছে, চুক্তিটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসন এবং ধাপে ধাপে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। জনসমক্ষে প্রকাশিত চুক্তিতে মোট ১৪টি দফা রয়েছে।
চুক্তির প্রধান বিষয়গুলো হলো:
১. অবিলম্বে সব ধরনের সংঘাত ও সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ভবিষ্যতে শক্তি প্রয়োগ না করার অঙ্গীকার।
২. একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
৩. ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ, প্রয়োজনে সময় বাড়ানো যাবে।
৪. যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণভাবে শেষ করবে।
৫. হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ।
৬. ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা।
৭. জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে ইরানের ওপর থাকা সব নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার।
৮. ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচির আন্তর্জাতিক তদারকি।
৯. চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বা স্ট্যাটাস কু বজায় রাখা।
১০. ইরানের তেল ও জ্বালানি রপ্তানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং প্রয়োজনীয় মওকুফ দেওয়া।
১১. ইরানের জব্দকৃত অর্থ ও সম্পদ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া।
১২. চুক্তি বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গঠন।
১৩. চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শুধু নির্ধারিত দফাগুলো বাস্তবায়ন করে পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।
১৪. চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
