

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইরান সরাসরি ইসরায়েলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। তেহরানের দাবি, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বারাকাহ পারমাণবিক কেন্দ্রের বাইরের একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে ড্রোন আঘাত হানে। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও আমিরাত সরকার বলছে, কেন্দ্রের মূল কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, হামলাটি যদি কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আঘাত হানত, তাহলে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল বিপদের মুখে পড়তে পারত।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা বা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হলে রিঅ্যাক্টর গলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
আবুধাবির আল দাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ কেন্দ্রটি আমিরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি প্রকল্প। দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় নির্মিত চারটি রিঅ্যাক্টর থেকে দেশটির মোট বিদ্যুতের প্রায় ২৫ শতাংশ উৎপাদন হয়।
ইরানের সামরিক সূত্রের ভাষ্য, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল আমিরাত ও ইরানের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ানো এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করা। তারা দাবি করেছে, ইসরায়েল অতীতেও আঞ্চলিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ কৌশল ব্যবহার করেছে।
তবে এ ঘটনায় আমিরাত এখনো কোন দেশকে সরাসরি দায়ী করেনি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনটি ড্রোন তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে দুটি ধ্বংস করা হলেও একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
ইরানের দাবি, আমিরাতের উপস্থাপিত তথ্যের সঙ্গে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। তেহরানের মতে, ইরান থেকে হামলা চালানো হলে ড্রোনগুলো উত্তর দিক থেকে আসার কথা ছিল। কিন্তু আমিরাত বলছে, সেগুলো পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।
এ নিয়েও বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, যদি ড্রোনগুলো ইরাকের দিক থেকে এসে থাকে, তাহলে সৌদি আরবের আকাশসীমা অতিক্রমের সময় সেগুলো শনাক্ত হয়নি কেন।
