বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যা: আরও যা জানা গেল ধর্ষক সোহেলের বিষয়ে

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা
expand
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া সোহেল রানাকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলায়।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই জুয়া, ঋণ ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের পর পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করতেন বলেও জানিয়েছে স্বজনরা।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর পুরো এলাকায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সোহেল রানার ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর হতবাক হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন আগেই অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় মহেশচন্দ্রপুর বাজারে সাইকেল মেকানিকের কাজ করতেন সোহেল রানা। তবে ধীরে ধীরে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। জুয়া খেলতে গিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণে জড়িয়ে পড়েন। ঋণের চাপ বাড়তে থাকলে পরিবারের মধ্যেও অশান্তি শুরু হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন সোহেল। তার বিরুদ্ধে একাধিক চুরির অভিযোগও ছিল এলাকায়। একপর্যায়ে প্রায় চার বছর আগে বাবা জাকির আলী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি আর গ্রামের বাড়িতে ফেরেননি।

এলাকাবাসীর দাবি, বাড়ি ছাড়ার পর বিভিন্ন এলাকায় পরিচয় গোপন করে চলাফেরা করতেন সোহেল। দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকায় গ্রামের মানুষের সঙ্গেও তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সোহেল রানার বোন জলি বেগম বলেন, “বিভিন্ন অপকর্ম আর ঋণের কারণে বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর সে আর বাড়িতে আসেনি। বিভিন্ন জায়গায় তার ছবি দেখে আমরাও হতবাক হয়ে গেছি।”

তিনি আরও জানান, প্রায় ১২ বছর আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন সোহেল রানা। সে সময় তাদের একটি ছোট ছেলে সন্তান ছিল। পরে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন তিনি।

এদিকে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার এবং হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন