

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরিশালের একটি আবাসিক হোটেল থেকে নিজের স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করেছেন স্বামী। ভুক্তভোগী স্বামীর অভিযোগ, যুবদলের এক নেতার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী গোপনে ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে বরিশাল শহরের একটি আবাসিক হোটেলের সামনের রাস্তায় নিজ স্ত্রীকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগকারী যুবকের নাম মো. সবুজ, তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি। আর অভিযুক্ত ওই নেতা একই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. আওলাদ ফরাজি বলে দাবি করেছেন সবুজ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্বামী মো. সবুজ বরিশাল নগরীর 'হক আবাসিক হোটেল'-এ যান। সেখানে তিনি তার স্ত্রী শেওলা বেগম ও যুবদল নেতা আওলাদ ফরাজিকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরে হোটেল থেকে নিজের স্ত্রীকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে আসেন তিনি। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তারা ভোলা থেকে স্পিডবোটযোগে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বোরহানউদ্দিন ও বরিশাল জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্বামী মো. সবুজের দাবি, গত ছয় মাস ধরে তার স্ত্রীর সঙ্গে কয়েকজন পুরুষের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন: "আমার স্ত্রীর মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করে চারজন পুরুষের সঙ্গে মোট প্রায় ৮ লাখ সেকেন্ড কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত সভাপতি আওলাদ ফরাজি বিভিন্ন সময় ওই হোটেলে অবস্থান করতেন এবং বিষয়টি আমি আগে থেকেই সন্দেহ করছিলাম।"
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে বোরহানউদ্দিন পৌর যুবদলের সভাপতি মো. হেলাল মুন্সি ও সাধারণ সম্পাদক জাফর মৃধা জানান, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও পদ-পদবি ব্যবহার করে কেউ যেন অনৈতিক বা সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আরও কঠোর নজরদারি ও দৃশ্যমান সাংগঠনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।