বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেল নিয়ে কমিটির সভা শেষে যে সিদ্ধান্ত জানা গেল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে গঠিত সচিব কমিটির বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোতে বিভিন্ন গ্রেডের বেতন বৃদ্ধি, বৈষম্য কমানো এবং সামগ্রিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে সচিবালয়ে শুরু হওয়া এই বৈঠক দুপুরে শেষ হয়।

কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় এ স্তরের কর্মীদের সুবিধা বাড়ানোর পক্ষে মত এসেছে। অন্যদিকে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশন সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।

পেনশন কাঠামোতেও বড় পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার নিচে, তাদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব রয়েছে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং এর বেশি পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী পূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে সরকারের প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। তবে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সমন্বয়ের পর এই চাপ কিছুটা কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও আলোচনা হচ্ছে।

এদিকে বাজেট প্রস্তুতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই পে-স্কেল ইস্যু ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর জন্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি চলছে। তবে সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে তিন ধাপে বা কয়েকটি অর্থবছরে তা কার্যকর করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং তখনই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রস্তাবিত কাঠামোতে প্রশাসন, শিক্ষা, পুলিশ, স্বাস্থ্যসহ সব সরকারি চাকরিজীবী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে জানা গেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন