

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) গুরুত্বপূর্ণ ৯০তম বৈঠক। বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে শুরু হয়ে তিন দিনব্যাপী এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত চলবে।
বৈঠকে অংশ নিতে গত বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশের একটি ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কলকাতায় পৌঁছেছেন।
বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কাদীরের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক মো. আবু সৈয়দ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান।
এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে যোগ দেবেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।
ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের এক প্রধান প্রকৌশলীর।
এবারের বৈঠকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু।
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটিই দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের শেষ বৈঠক।
বৃহস্পতিবার বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল মুর্শিদাবাদে যাবেন
সেখানে বৈঠকের ফাঁকে ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ পরিমাপ করবেন তারা। পরে প্রতিনিধিদল কলকাতায় ফিরে একটি অভিজাত হোটেলে মূল বৈঠকে অংশ নেবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে, এই শুষ্ক মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি বণ্টনের বিধান রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গায় পানির প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং অবশিষ্ট পানি পাবে বাংলাদেশ।
পানির প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি অংশ পাবে ভারত। আর পানির প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেবে।
