

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অবশেষে অগ্রগতি হতে যাচ্ছে ভারতের দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা সাবমেরিন প্রকল্পে। জার্মানির থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমসের (টিকেএমএস) সঙ্গে প্রায় ৭০ হাজার কোটি রুপির চুক্তির প্রস্তাব শিগগিরই ভারতের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে। অনুমোদন মিললে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছয়টি অত্যাধুনিক প্রচলিত সাবমেরিন নির্মাণের পথ খুলবে।
‘প্রজেক্ট ৭৫(আই)’ নামের এই প্রকল্পে সাবমেরিনগুলো মূলত ভারতের মুম্বাইয়ের মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেডে (এমডিএল) নির্মাণ করা হবে। এতে অংশীদার থাকবে জার্মানির টিকেএমএস। বাণিজ্যিক শর্ত ও কারিগরি বিষয় নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আলোচনা চললেও বারবার তা থমকে গেছে।
জার্মান প্রতিষ্ঠানটি হায়দ্রাবাদের ভিইএম টেকনোলজিসের সঙ্গে ভারী ওজনের টর্পেডো তৈরি, নির্মাণ, সমন্বয় এবং পরবর্তী সময়ে আধুনিকায়নের জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করেছে। টিকেএমএসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটলাস ইলেকট্রনিকও এই উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে টর্পেডোর সমন্বয় ও পরীক্ষার দায়িত্বে থাকবে ভিইএম।
এই সমঝোতা পরে একটি অংশীদারত্ব চুক্তিতে রূপ নিয়েছে। এর আওতায় প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির অধীনে টর্পেডো তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ ছাড়া মুম্বাইভিত্তিক সিএফএফ ফ্লুইড কন্ট্রোলের সঙ্গে সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধব্যবস্থা নিয়ে অংশীদারত্ব করেছে টিকেএমএস। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)সহ আরও কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের বিষয়েও আগ্রহী তারা।
ভারতের কাছে এই প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু ছয়টি সাবমেরিন কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির বড় লক্ষ্য হলো সাবমেরিন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যতে নিজস্ব নকশা তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলা। নতুন সাবমেরিনগুলোতে এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (এআইপি) প্রযুক্তি থাকার কথা। এর ফলে প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের তুলনায় এগুলো অনেক বেশি সময় পানির নিচে থাকতে পারবে। এতে দীর্ঘ সময় টহল ও সমুদ্র নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাড়বে।
তবে ভারতের সামনে বড় প্রশ্ন হলো, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আসলে কতটা সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। শুধু বিদেশি যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর বদলে সেগুলোর প্রযুক্তি বোঝা, ভবিষ্যতে উন্নত করা এবং নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: এনডিটিভি


