

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে ভারতে মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণামূলক অপরাধের ঘটনায়। চলতি বছরের মে থেকে জুলাই-এই তিন মাসে এ ধরনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ভারতে ২৫ জন মুসলিম।
এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা বাহিনীর (স্টেট অ্যাক্টর) মধ্যকার সংঘর্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ১০ জনের মৃত্যুর পেছনে রয়েছে হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থি (নন-স্টেট অ্যাক্টর) সংগঠন।
নিহত ২৫ জনের মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। এসব তথ্য উঠে এসেছে ‘সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন’ পরিচালিত ‘ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার’-এর একটি প্রতিবেদনে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ট্র্যাকারটি এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের তথ্য নথিভুক্ত করা শুরুর পর থেকে ২০২৬ সালটি মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণামূলক অপরাধের কারণে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরে পরিণত হতে চলেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে নিহত মুসলিমের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে।
এর মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে রাষ্ট্রীয়পক্ষের কারণে, আর চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হামলাকারীদের হাতে বাকি ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়কালে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ও উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উল্লিখিত সময়ে রাষ্ট্রীয় বাহিনী মুসলমানদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দমনপীড়নের নানা কৌশল অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে সাজানো পুলিশি ‘এনকাউন্টার’ ও পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু, শত শত মানুষকে আটক, তাদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা। পাশাপাশি রয়েছে উত্তর প্রদেশ, আসাম, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত বেড়া ডিঙিয়ে পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় তিন হাজারের মতো এ ধরনের স্থাপনা/অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, হাইকোর্ট উচ্ছেদ সংক্রান্ত নিজস্ব সুরক্ষাবিধি কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং এর পরিবর্তে শীর্ষ আদালত অবমাননার আবেদনগুলো ও সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার এবং মুসলিমবিদ্বেষী পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্যটিতে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রথমবারের মতো জয়ের পর থেকে মসজিদ, মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং হকারদের বসতির ওপর অভিযান চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন সরকার মুসলিমদের ওপর প্রভাব ফেলে এমন বেশ কিছু পদক্ষেপও নেয়। এসবের মধ্যে রয়েছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা কল্যাণমূলক ভাতার সঙ্গে যুক্ত নাগরিকত্ব যাচাইবাছাই প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ তালিকায় পরিবর্তন, সংখ্যালঘুবিষয়ক ও মাদ্রাসা খাতে বাজেটে ৬২ শতাংশ ছাঁটাই এবং গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ, পুলিশের হাতে আটক কথিত ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ আদালতে হাজির না করেই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া ইত্যাদি।