রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের জেন জি থেকে পাকিস্তানের শেখার আছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের জেন জি প্রজন্মকে এতোদিন মনে করা হতো তারা কেবল ফোন স্ক্রল আর হাসি-তামাশায় সময় নষ্ট করে। সারাক্ষণ রিলস আর ইনস্ট্রাগ্রামেই সময় ব্যয় করে।

কিন্তু গত এক মাসে সেই ধারণাকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে দেশটির জেন-জিরা। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় টানা প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। পদত্যাগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

জেন জি প্রজন্মের মনোযোগ স্বল্পস্থায়ী বলে মনে করা হয়। তবে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে যে বিপুল সমর্থন পেয়েছে ভারতের জেন-জি আন্দোলনকারীরা; তা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের প্রভাবের কথাই বলে দেয়। সাম্প্রতিক অতীতে এসব দেশেও জেন জি বিক্ষোভ দেখা গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির কাছে ভারতের জেন-জি বিক্ষোভ নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পাকিস্তানি এক তরুণী বলেন, ‘কহিন পেয়ার না হো যায়ে...ইতনা আছা করোগে তো আমি নফরাত কইসে করেঙ্গে।’ অর্থাৎ তোমরা যদি এত দারুণ কাজ করো, তাহলে আমি তোমাদের ঘৃণা করব কীভাবে?’’ সীমান্তে বিভাজিত হলেও জেন জির জোয়ারে এখন সবাই একসূত্রে গাঁথা।

শ্রীলঙ্কা ও নেপাল থেকেও ভারতের আন্দোলনকারী জেন-জিদের প্রতি ভালোবাসা ও বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২২ সালে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে রাজাপাকসে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার স্মৃতি এখনও শ্রীলঙ্কার তরুণদের মনে টাটকা রয়েছে। তাই ভারতের এই আন্দোলনের রেশ পাওয়া গেছে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক কার্টুন ও ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও। শ্রীলঙ্কান কার্টুনিস্ট অবান্থা আরটিগালা তার এক কার্টুনে দেখিয়েছেন, ভারতের সরকার কীভাবে ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকাসম আন্দোলনকারীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

এছাড়া, আন্দোলনের সবচেয়ে শক্তিশালী ছবি হয়ে উঠেছে মুম্বাইয়ের তরুণী রিও আহিরের একটি স্থিরচিত্র। যেখানে পুলিশের প্রিজন ভ্যানের গতি রোধ করতে তার এক হাত ছিল গাড়ির ওপর। অনেকেই এর সঙ্গে ১৯৮৯ সালের চীনের তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ঐতিহাসিক ‘ট্যাংক ম্যানের’ ছবির তুলনা করছেন।

নেপালও ভারতের এই জেন জি যোদ্ধাদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। কাঠমান্ডুর কনটেন্ট ক্রিয়েটর অবিনাশ মিশ্র বলেন, আন্দোলনকারীদের রাগ ও অনুভূতি শতভাগ যৌক্তিক। ২০২৫ সালে নেপালে জেন জি আন্দোলনের স্মৃতি টেনে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা যা অনুভব করছ তা সঠিক, লড়াইয়ের লক্ষ্য যেন কখনো হারিয়ে না যায়।

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক প্রতিক্রিয়া এসেছে পাকিস্তান থেকে। সাধারণত ভারতের প্রতি যেখানে শত্রুতার আবহ থাকে, সেখানে এবার দেখা গেছে অকপট প্রশংসা।

পাকিস্তানে মুক্তচিন্তা বা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু দেশটির নাগরিকরা ভারতের এই ‘ককরোচ’ আন্দোলনকারীদের প্রেমে পড়েছেন। এক পাকিস্তানি তরুণ বলেন, ‘‘সুযোগ পেলে আমাদেরও এভাবে রাস্তায় নামা উচিত। ককরোচ জনতা পার্টি সত্যিই দারুণ। তারা খুব বেশি ভাবগাম্ভীর্য দেখায়নি, তাদের এই ব্যাপারটা আমার দারুণ লেগেছে।’’

দেশটির অপর এক তরুণ বলেন, মুম্বাইয়ে সাধারণ একজন পথচারী পুলিশের ভ্যানের ছিটকিনি খুলে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের যেভাবে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, তা দেখে তিনি মুগ্ধ। তিনি পাকিস্তানি তরুণদের ভারতের শিক্ষার্থীদের থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ঐক্য। হিন্দু-মুসলিম বা জাতিগত বিভেদ ভুলে তারা এক হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানে পাঞ্জাবি, পশতুন, সুন্নি, শিয়া বিভেদের কারণে আমাদের পক্ষে এভাবে এক হওয়া কঠিন।

আন্দোলনে বিদেশি বা পাকিস্তানি অর্থায়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে পাকিস্তানি কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিলাল হাসান ব্যাঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, মানুষ বলছে পাকিস্তান নাকি এতে অর্থায়ন করেছে! আমাদের নিজেদের দেশ চালানোর টাকা নেই, আমরা আবার তাদের টাকা দেব কীভাবে?

তিনি বলেন, ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করছে, আর আমাদের দেশে মানুষকেই গায়েব করে দেওয়া হয়। যদি আপনি বেলুচ হন, তাহলে মানুষটি বেঁচে আছে না মরে গেছে তাও জানা যাবে না। আমাদের এখানে মানুষ এক প্লেট বিরিয়ানির জন্য বিক্রি হয়ে যায়।

বিলাল হাসান দুই দেশের এই আত্মিক সম্পর্ককে এক বাক্যে প্রকাশ করে বলেন, দিনশেষে আমরা একে অপরকে বুঝি। কারণ আমরা তো একই বিচ্ছেদের (দেশভাগ) সন্তান।

রাজধানী দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ যখন তুঙ্গে উঠেছিল, তখন চারপাশের দৃশ্য ছিল নজিরবিহীন। বিশ্ব আর ভারতের তরুণদের ভিডিও, মিম বা স্লোগান দেখে হাসেনি; বরং শ্রদ্ধার সঙ্গে তা প্রত্যক্ষ করেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank