

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাসে বারবার উঠে এসেছে যন্তর মন্তরের নাম।
ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের মতো কর্মসূচির জন্য অন্যতম পরিচিত ঠিকানা হয়ে উঠেছে এটি। প্রশ্ন হলো, যেকোনো বড় আন্দোলনের ক্ষেত্রে যন্তর মন্তরকেই কেন বেছে নেয়া হয়?
যন্তর মন্তর হলো ১৭২৪ থেকে ১৭৩৫ সালের মধ্যে অম্বর বা জয়পুরের মহারাজা সওয়াই জয় সিং-এর নির্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির। এরকম পাঁচটি মানমন্দির রয়েছে। এর মধ্যে দিল্লিরটি প্রতিবাদের প্রধান কেন্দ্র।
আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল কেন তা জানতে ফিরে যেতে হবে প্রায় চার দশক আগে। ১৯৮৮ সালে কৃষক নেতা মহেন্দ্র সিং টিকায়েতের নেতৃত্বে দিল্লির বোট ক্লাবে লক্ষাধিক কৃষকের সমাবেশ হয়েছিল। ইন্ডিয়া গেট সংলগ্ন ওই এলাকায় কয়েক দিন ধরে অচলাবস্থা তৈরি হয়, যা প্রশাসনের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৩ সালে বোট ক্লাব এলাকায় রাজনৈতিক আন্দোলন নিষিদ্ধ করা হয়। পরে বিকল্প প্রতিবাদস্থল হিসেবে বেছে নেয়া হয় যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকা। ধীরে ধীরে এটি ভারতের সবচেয়ে পরিচিত প্রতিবাদস্থলে পরিণত হয়।
২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আদালত জানায়, গণতন্ত্রে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মত প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। তবে একই সঙ্গে জনজীবন ও আইনশৃঙ্খলার ভারসাম্য বজায় রাখার কথাও বলা হয়।
দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হলেও যন্তর মন্তর সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে। ফলে বিক্ষোভকারীরা সহজে গণমাধ্যমের নজরে আসতে পারেন, আবার সরাসরি প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তুলনামূলক কম থাকে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এখানে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়া হয়। দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচি পরিচালনার জন্য পানীয় জল, শৌচাগার ও অস্থায়ী মঞ্চের মতো কিছু মৌলিক সুবিধাও পাওয়া যায়।
অন্যদিকে সংসদ ভবন বা কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকার দিকে মিছিল করতে গেলে আইন অনুযায়ী বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। অনুমতি ছাড়া জমায়েত বা মিছিল এগিয়ে গেলে পুলিশ বাধা দিতে পারে।
সমালোচকদের মতে, যন্তর মন্তর একদিকে যেমন নাগরিকদের প্রতিবাদের সুযোগ করে দেয়, অন্যদিকে আন্দোলনকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার প্রশাসনিক ব্যবস্থাও হিসেবে কাজ করে। তাই দিল্লিতে নাগরিক ক্ষোভ, দাবি ও প্রতিবাদের সবচেয়ে স্বীকৃত মঞ্চ হিসেবে যন্তর মন্তর গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: দ্য ওয়াল ডট ইন।