

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েত’-এ যোগ দিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার কৃষক রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তবে পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তের শম্ভু এলাকায় পৌঁছালে হরিয়ানা পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয়।
কৃষকদের অভিযোগ, দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। যদিও পাঞ্জাব থেকে আসা কৃষকদের থামিয়ে দেওয়া হয়, আম্বালা, কুরুক্ষেত্রসহ হরিয়ানার বিভিন্ন জেলা থেকে আসা স্থানীয় কৃষকরা দিল্লির দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
শম্ভু সীমান্তে ব্যারিকেডের এই দৃশ্য ২০২৪ সালের ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সেবারও রাজধানীতে কৃষকদের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক ও বহুস্তরীয় ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল।
দিল্লিতে যেতে না পেরে কৃষকরা আপাতত শম্ভু সীমান্তেই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। তারা হরিয়ানা ও পাঞ্জাব—উভয় রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করছেন।
বিকেইউ (শহীদ ভগত সিং) নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভূখণ্ডের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যারিকেড স্থাপন করেছে। তার দাবি, এ ঘটনায় পাঞ্জাব সরকার কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে।
কেন এই আন্দোলন?
‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে আয়োজিত এই কিষাণ মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন অংশ নিয়েছে। তাদের মূল দাবি, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে।
কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় কৃষি, দুগ্ধ, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয় এবং মেধাস্বত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে, যা ভারতের কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।
কৃষকদের আশঙ্কা
কৃষক সংগঠনগুলোর দাবি, কম শুল্কে ভর্তুকিপ্রাপ্ত মার্কিন কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করলে দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না।
তাদের মতে, ভারতের প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবার সরাসরি দুগ্ধ খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীরা প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সব নথি জনসমক্ষে প্রকাশ এবং কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না করার দাবি জানিয়েছেন।