মঙ্গলবার
২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলন চরমে, নীরবতা ভেঙে কড়া বার্তা দিলেন মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যে অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পরই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে ত্রুটিমুক্ত ও নিরাপদ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মোদি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) সংসদীয় দলের এক বৈঠকে এসব কথা বলেন মোদি।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভারতের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পরপরই সরকার ব্যবস্থা নেয়। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য দ্রুত পুনঃপরীক্ষা আয়োজন এবং ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

রিজিজু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের শীর্ষ আইনজীবীদের সহায়তায় এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।’

বৈঠকে মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস শুধু কেন্দ্র বা কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যের সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় সমস্যা। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়লেও সরকার দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় তিনি এনডিএর সাংসদদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন। তরুণদের আস্থা অর্জন এবং সরকারের অবস্থান তাদের কাছে তুলে ধরার ওপরও জোর দেন তিনি।

একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণদের বিভ্রান্ত করা সহজ, কিন্তু সঠিক পথ দেখানো কঠিন।’

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, কিছু গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে।

এর আগে সোমবার বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে হাজারো বিক্ষোভকারী রাজধানী নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করেন। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।

পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের বাধা দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শতাধিক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। রাজধানীতে সহিংসতার পেছনে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন