

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে এক বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তনের দাবি সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অরূপ রায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে; এমন দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) কলকাতার নিউটাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলর।
বৈঠকের নেতৃত্ব দেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের শুরুতে তিনি দলের সাংগঠনিক কাঠামোর সংকট ও গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক হলেও ২০২২ সালের পর নতুন কমিটি হয়নি—এই কারণেই জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
এরপর দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ধ্বনি ভোটে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা নয়; বরং তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে ওঠার ইঙ্গিত। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দলটির অভ্যন্তরে যে অস্থিরতা ও পুনর্গঠনের আলোচনা চলছিল, এই বৈঠককে তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী দলের সহসভাপতি হিসেবে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথিন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আখরুজ্জামান আনসারি।
একই সঙ্গে দলের অতীত আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য নিরীক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে এটি নতুন নেতৃত্বের উত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পরিচিত নেতৃত্ব কাঠামোর বাইরে গিয়ে দলটি নতুন পথে হাঁটছে কি না সে প্রশ্নও উঠছে।
তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও দলীয় স্বীকৃতি ছাড়া বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ।
সূত্র: জি ২৪ ঘণ্টা
