

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের মাঠে এখনো জয়ের দেখা পায়নি ইরান। তবে ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে দলটির মাঠের বাইরের বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে এলেও প্রতিবার খেলা শেষে দেশটি ছাড়তে হচ্ছে তাদের। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি আবেগঘন চিঠি রেখে গেছে ইরান দল।
রোববার (২১ জুন) বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে লেখা সেই চিঠির ছবি প্রকাশ করেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। সেখানে নিজেদের ইতিহাস, পরিচয় ও জাতীয় চেতনাকে তুলে ধরেছেন ইরানি ফুটবলাররা।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আধুনিক ইরান—আমাদের চেতনা আজও অটুট।’
লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থানের জন্য আয়োজকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে দলটি। ইরানি খেলোয়াড়দের ভাষায়, তারা গর্ব নিয়ে শহরটিতে এসেছিলেন, সম্মানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং মর্যাদা নিয়েই বিদায় নিচ্ছেন।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার পরও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়েছিল ইরানকে। এবার বেলজিয়ামের ম্যাচের পরও সেই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন দলের কোচ ও অধিনায়ক।
তবে চিঠির সবচেয়ে আবেগী অংশটি ছিল সমর্থকদের উদ্দেশে। ১৮০ মিনিট ধরে যারা গ্যালারি ও মাঠের বাইরে থেকে দলকে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, সম্মান ও বন্ধুত্ব বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
চিঠিতে লাল কালিতে আলাদাভাবে লেখা ছিল ‘৭৬৮’ ও ‘মিনাব’ শব্দ দুটি। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিনাবে একটি স্কুলে প্রাণ হারানো শিশুদের স্মরণ করতেই এই উল্লেখ।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছিল ইরান। যদিও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে দলটি। তবে তিনটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তাদের বেসক্যাম্প রাখা হয়েছে মেক্সিকোর তিজুয়ানায়।
