বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে বাংলাদেশে না পাঠাতে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ স্বামীর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০১:২০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী বাংলাদেশি কিন্তু স্বামী ভারতীয়, দুজনের রয়েছে দুই নাবালক সন্তান। এমন অবস্থায় স্ত্রীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। স্ত্রীকে যেন নিজ দেশে ফেরত পাঠানো না হয়- সরকারের কাছে কাতর আর্জি জানিয়েছেন ভারতীয় স্বামী। এমন ঘটনা ভারতের গুজরাটের আনন্দ জেলার লামভভেল গ্রামের।

জানা যায়, গুজরাটের ওই গ্রামের যুবক তরুণ প্যাটেলের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর প্রেম, পরে তা পরিণতি পায় বিয়েতে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে অভিযান শুরু হয়েছে গুজরাটে।

বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে তালিকাভুক্ত যে সমস্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম তরুণের স্ত্রী কাজল। আর সেখানেই বিপত্তি। ভারত সরকারের কাছে তরুণের কাতর আবেদন তার স্ত্রী ভারতে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন, তাই তাকে যেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো না হয়। কারণ হিসাবে তরুণের দাবি স্ত্রীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

গুজরাট পুলিশ মহাপরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে চলতি মাসে এ পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৬ শতাধিকের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে আনন্দ জেলা থেকেই আটক করা হয় প্রায় ৬০ জনকে।

অবৈধ অভিবাসীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি গুজরাট পুলিশের রাজ্যব্যাপী ‘অপারেশন ডেল্টা হান্ট’ অভিযান চলাকালীন সময়ে এই বিষয়টি সামনে আসে। বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে বসবাসের অভিযোগে ওই নারীকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আটক করা হয়েছিল। জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন কাজল। পরবর্তীতে আনন্দ জেলার বাসিন্দা তরুণ প্যাটেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

তরুণ প্যাটেল জানিয়েছে, ২০১২-১৩ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে মাধ্যমে কাজলের সাথে পরিচয় গড়ে ওঠে। সেসময় কাজল বাংলাদেশে থাকতেন এবং ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্যাটেলের দাবি, তার স্ত্রী কাজল বাংলাদেশে বৈধভাবে পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন, যাতে তারা আইনিভাবে বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু তা পেতে ব্যর্থ হন। এরই মধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য কারো সঙ্গে বিয়ের জন্য চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং গুজরাটের আনন্দ জেলায় এসে পৌঁছান।

সেই থেকে তারা উভয়ই একসাথে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। প্যাটেলের অভিমত, কাজল ভারতে আসার পর তারা হিন্দু রীতি অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই থেকে কাজল হিন্দু রীতিনীতি মেনে চলেন এবং নিয়মিত মন্দিরেও যান।

তরুণ প্যাটেল আরও জানান, বৈধ নথিপত্র ছাড়াই ভারতে বসবাসের বিষয়টি ধরা পড়ার পর আনন্দ লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ সম্প্রতি তার স্ত্রীকে আটক করেছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া চলছে।

গুজরাটের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংভির কাছে আবেদন জানিয়ে তরুণ প্যাটেলের আর্জি, মানবিক কারণে তার স্ত্রীকে যেন নিজ দেশে ফেরত না পাঠানো হয়। তরুণ বলেন, ‘আমার স্ত্রী হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছে এবং তার পরিবার হয়তো তাকে আর মেনে নেবে না। আমার আশঙ্কা, সেখানে কট্টরপন্থি গোষ্ঠীর কারণে তার জীবন বিপন্ন হতে পারে। মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে আমাদের দুই সন্তানের কী হবে?’

তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী কেবল আমাকে বিয়ে করা ও আমার সঙ্গে সংসার করার উদ্দেশ্যেই অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তাই ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু আমার একটাই আর্জি, তাকে যেন ফেরত না পাঠানো হয় এবং তার বিষয়টি যেন সহানুভূতিশীলভাবে বিবেচনা করা হয়।’

জানা গেছে, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন কাজলকে বর্তমানে একটি নারী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ফলে আটক হওয়ার ২ সপ্তাহের মধ্যে তাদের সন্তানরা মায়ের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করতে পারেনি। মা'কে মুক্তি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি জানিয়েছে ওই দম্পতির বড় ছেলে ধ্যান প্যাটেলও। সে জানায়, সে তার মাকে ছাড়া থাকতে পারবে না এবং তাকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্তি দেয়া উচিত।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আনন্দ জেলার পুলিশ সুপার জি জি জাসানি কোনো মন্তব্য না করলেও, আহমেদাবাদ রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) রাঘবেন্দ্র ভাটসা বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘আমি এই বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। আনন্দ জেলার পুলিশ সুপারের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পরই আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করব।’

সূত্র: চ্যানেল২৪

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Czechia VS South Africa
Scheduled
18 Jun, 10:00 PM
VS
World Cup