

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য থাইল্যান্ড বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসা-মুক্ত থাকার মেয়াদ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দেশটির মন্ত্রিসভা ৯০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য চালু থাকা সহজ ভিসা-মুক্ত প্রবেশ সুবিধা বাতিল করে নতুন নিয়ম অনুমোদন দিয়েছে।
করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ এবং ইউরোপের শেনজেনভুক্ত ২৯টি দেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য ৬০ দিনের ভিসা-মুক্ত সুবিধা চালু করা হয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, থাইল্যান্ড আবার স্তরভিত্তিক (টায়ারড) ভিসা ব্যবস্থায় ফিরছে। এতে ভিসা-মুক্ত থাকার সর্বোচ্চ মেয়াদ ৩০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে, আর কিছু দেশের ক্ষেত্রে তা কমিয়ে ১৫ দিন নির্ধারণ করা হচ্ছে।
ব্যাংককে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের মুখপাত্র রাচাদা ধনাদরেক বলেন, বর্তমান নিয়মের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি অপব্যবহার করছিল। পর্যটন খাত থাই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও নিরাপত্তা এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৬০ দিনের দীর্ঘ সময়সীমা অনিচ্ছাকৃতভাবে আইনি ফাঁক তৈরি করেছিল, যার ফলে অবৈধ ব্যবসা, অনুমোদনহীন বিদেশি কর্মসংস্থান এবং অনলাইন প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রকৃত ও উচ্চমানের পর্যটকদের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমাই যথেষ্ট। মাদক ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত বিদেশিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানের পরই এ নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকি স্পষ্ট করেছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি; বরং যারা ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে, তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ পদক্ষেপ।
সিস্টেমের অপব্যবহার রোধ করতে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ ৩০ দিনের মেয়াদের জন্য স্থল সীমান্ত দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ দুইবার ভিসা-মুক্ত প্রবেশের কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হবে, যা ২০২৪ সালের সম্প্রসারণের আগের প্রোটোকলের মতোই। তবে এই নতুন নিয়ম ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে তা এখনো সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটির জিডিপির ১০ শতাংশেরও বেশি আসে পর্যটন খাত থেকে, আর ঠিক এমন একটি সংবেদনশীল সময়েই এই পরিবর্তনটি আনা হলো। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম প্রান্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটকদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার কারণে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বার্ষিক ভিত্তিতে ৩.৪ শতাংশ কমে গেছে। অবশ্য এই মন্দা সত্ত্বেও থাই কর্মকর্তারা চলতি বছরে তাদের ৩৩.৫ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৩৫ লাখ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা বজায় রাখার ব্যাপারে আশাবাদী।
সূত্র: আল-জাজিরা।
