

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটে মাইন স্থাপন শুরু করেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দুইজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের মধ্যে ইরানি বাহিনী প্রণালীটির বিভিন্ন স্থানে অন্তত কয়েক ডজন মাইন বসিয়েছে। তবে তাদের কাছে থাকা মাইন স্থাপনকারী ছোট জাহাজগুলোর মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ এখন পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে।
এর অর্থ, ইরান চাইলে এই জলপথে আরও বিপুলসংখ্যক মাইন বসিয়ে পুরো প্রণালীজুড়ে বড় ধরনের মাইনফিল্ড তৈরি করতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এর আগে ইরান মাইন বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেলেও সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এতে করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুটে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন করে থাকে, তবে তা অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় এর সামরিক পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের পোস্টটি কিছুটা বিভ্রান্তিও তৈরি করেছে। একই পোস্টে তিনি একদিকে বলেন, ইরান মাইন স্থাপন করেছে—এমন কোনো নিশ্চিত রিপোর্ট তাদের কাছে নেই; আবার অন্যদিকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, মাইন সরানো না হলে ইরানকে অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ইরানের মাইন স্থাপনের প্রস্তুতির খবর পাওয়ার পরই ট্রাম্প এ প্রতিক্রিয়া জানান। পরে তিনি তার আগের পোস্টটি মুছে নতুন বার্তাসহ আবার প্রকাশ করেন।
নতুন বার্তায় ট্রাম্প বলেন, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যেসব উন্নত প্রযুক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর চেষ্টা করা যেকোনো নৌকা বা জাহাজ ধ্বংস করতেও সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন
