বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘুম ভাঙার পরই মোবাইলে হাত, জেনে নিন এর প্রভাব 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৪ এএম
প্রতীকী ছবি
expand
প্রতীকী ছবি

সকালের অ্যালার্ম বাজতেই হাত বাড়িয়ে মোবাইল ফোনটি তুলে নেওয়া; এখন অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। অ্যালার্ম বন্ধ করার পরপরই চোখ চলে যায় নোটিফিকেশনে। কে মেসেজ দিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কী পোস্ট হলো, কিংবা রাতের মধ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ খবর এসেছে কি না—এসব দেখতে দেখতে কখন যে কয়েক মিনিট কেটে যায়, অনেকেই টের পান না।

ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে এই অভ্যাসটিকে স্বাভাবিক বলে মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের শুরুতেই মোবাইলের স্ক্রিনে ডুবে যাওয়া শরীর ও মনের ওপর অপ্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর মানুষের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়। এই সময়টাকে শরীর ও মনকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে দেখা হয়।

কিন্তু ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে যখন কেউ মোবাইলের নানা নোটিফিকেশন, খবর বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য দেখতে শুরু করেন, তখন মস্তিষ্ক একসঙ্গে অনেক তথ্য গ্রহণ করতে শুরু করে। এতে দিনের শুরুতেই অজান্তে এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

আরেকটি বিষয় হলো মনোযোগের ওপর প্রভাব। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই যদি মোবাইল স্ক্রল করতে করতে সময় কেটে যায়, তাহলে দিনের শুরুতেই মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। অনেকেই তখন দিনের পরিকল্পনা বা প্রয়োজনীয় কাজগুলো গুছিয়ে শুরু করার বদলে অন্যের পোস্ট, মন্তব্য বা নানা খবরের ভিড়ে ডুবে যান।

চোখের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘ সময় ঘুমের পর চোখ কিছুটা সংবেদনশীল থাকে। ঠিক সেই সময়েই যদি উজ্জ্বল মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, তাহলে চোখে অস্বস্তি, শুষ্কতা বা ঝাপসা দেখার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথমে প্রাকৃতিক আলোতে চোখকে অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া বেশি উপকারী।

এ ছাড়া সময় নষ্ট হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করেন, মাত্র দুই বা তিন মিনিটের জন্য মোবাইল দেখছেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করতে করতে সেই অল্প সময় কখন ১৫ বা ২০ মিনিট হয়ে যায়, তা বুঝতে পারা যায় না। ফলে দিনের শুরুতেই একটি মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস পুরোপুরি বাদ দেওয়া না গেলেও ছোট কিছু পরিবর্তন আনা সম্ভব। যেমন ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট মোবাইল ব্যবহার না করা, এক গ্লাস পানি পান করা, জানালা খুলে কিছুটা প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস নেওয়া, অথবা হালকা স্ট্রেচিং বা হাঁটার মতো কাজ করা দিনের শুরুটাকে অনেক বেশি সতেজ করে তুলতে পারে।

প্রযুক্তি আধুনিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। তবে দিনের প্রথম কয়েকটি মুহূর্ত যদি নিজের শরীর ও মনের জন্য রাখা যায়, তাহলে তা সারাদিনের কাজ ও মনোযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় ছোট একটি অভ্যাসই বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন