

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে তীব্র দাবদাহ আর পানির অভাবে অন্তত ৪৯ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। নাইজারের উত্তরাঞ্চলের দুর্গম এক মরুভূমি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় তাদের গাড়ির বিকল হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
নাইজার ও আলজেরিয়ার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র আসামাকা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে এই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। নাইজারের আগাদেজ প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয় জানায়, নিহত ব্যক্তিরা মালিতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ট্রাকে করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে মরুভূমির চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাদের বহনকারী ট্রাকটি বিকল হয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চালক ও যাত্রীরা কয়েক দিন ধরে গাড়িটি সচল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবল গরম ও পানি ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
একপর্যায়ে তৃষ্ণা ও শারীরিক দুর্বলতায় একে একে যাত্রীরা মারা যান। এই ঘটনার পর মাত্র দুজন জীবিত অবস্থায় মরুভূমি পেরিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার হেঁটে আসামাকা সীমান্তে পৌঁছে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।
এরপর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের ভেতর ও আশপাশ থেকে বহু মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে মরুভূমির ওই প্রত্যন্ত এলাকাতেই স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গণকবর দেওয়া হয়।
গভর্নরের দপ্তর আরও জানিয়েছে, ট্রাকটি মালির তেলহান্দেক শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, তবে পথচ্যুত হয়ে দুর্গম মরুভূমির গভীরে প্রবেশ করে। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার কার্যক্রমও বিলম্বিত হয়।
এদিকে একই অভিযানে অংশ নেওয়া উদ্ধারকারী দল পরে আরও একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে অন্তত ৬০ জন যাত্রীকে রক্ষা করেছে। মালির হারুবা শহর থেকে আসা ওই ট্রাকটি তিন দিন ধরে মরুভূমিতে বিকল অবস্থায় আটকে ছিল। প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের দ্রুত পানি সরবরাহ এবং যানটি মেরামতের মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাহারা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপমুখী অভিবাসন ও সীমান্ত বাণিজ্যের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। কঠিন জলবায়ু, দীর্ঘ পথ এবং নিরাপদ পানির অভাবে এখানে বারবার প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।
