

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গতকালের সংঘর্ষের রেশ কাটার আগেই আবারও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার আশঙ্কায় রয়েছে হবিগঞ্জ। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জেলা ছাত্রদল এবং জেলা যুবদলের পৃথক কর্মসূচিকে ঘিরে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
জানা গেছে, এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলার দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।
দলটির ঘোষিত কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের।
অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল ও জেলা যুবদলও পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। একই দিনে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে শহরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে লক্ষ্যে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সংলগ্ন থানা মোড় এলাকায় এনসিপির ‘জুলাই বাস্তবায়ন’ সমাবেশ শেষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাবেশ শেষে সারজিস আলম ও নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হলে থানা মোড় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী এবং হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহবুব চৌধুরী মুবিন রয়েছেন।
পরিস্থিতির অবনতি হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রথমে শহরের সোনালী ব্যাংকের একটি ভবনে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। রাত প্রায় ১১টার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় সারজিস আলম, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সিলেটে পাঠানো হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন, সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জে কেউ উসকানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। সংঘর্ষে ছাত্রদল বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের সম্পৃক্ততা নেই। বরং উসকানিমূলক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।’
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ বলেন, ‘সমাবেশ চলাকালে যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে এনসিপির নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে পুলিশ। এ কাজে প্রায় ১২০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। আজকের কর্মসূচিগুলোকে ঘিরেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’