

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকার তেজগাঁও এলাকার বাজার থেকে সংগ্রহ করা নন-ব্র্যান্ডেড বা খোলা সয়াবিন তেলের নমুনায় সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ পেয়েছেন গবেষকেরা।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষকের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস’-এর ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকেরা রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপ থেকে তিনটি ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকার খোলা বাজার থেকে তিন ধরনের নন-ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলের নমুনা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৬০টি নমুনা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পরীক্ষায় প্রতিটি নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। ব্র্যান্ডেড তেলে প্রতি লিটারে গড়ে ৪৮ হাজার ৬৭টি এবং নন-ব্র্যান্ডেড তেলে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি কণা পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন এলাকার নন-ব্র্যান্ডেড তেলের নমুনা তুলনা করে তেজগাঁও থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ, বাতাসে থাকা কৃত্রিম তন্তু, পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাত্রে তেল সংরক্ষণ, খোলা অবস্থায় বিক্রি এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে তেজগাঁও এলাকার পরিবেশই সরাসরি এ দূষণের কারণ, এমন সিদ্ধান্ত গবেষণায় দেওয়া হয়নি। তেল উৎপাদন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রির কোন পর্যায়ে প্লাস্টিক কণাগুলো মিশেছে, তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
বোতলজাত তেলেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ায় গবেষকেরা উৎপাদন, পরিশোধন, প্যাকেজিং এবং পরিবহন প্রক্রিয়াকেও সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দেখছেন। ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং নিয়মিত পরীক্ষার সুপারিশ করেছেন তারা।