

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করানোর পর চেহারা পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে না মেলায় তিন চীনা নারী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন—এমন একটি ছবি ও দাবি ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটি ভিত্তিহীন ও ভুয়া।
ভাইরাল ছবিতে দেখা যায়, তিন নারী মুখে ব্যান্ডেজ ও ফোলা অবস্থায় বিমানবন্দরে বসে আছেন। তাদের হাতে পাসপোর্টও দেখা যায়। দাবি করা হয়েছিল, চীনের জাতীয় দিবসের ছুটির সময়ে তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে নাক ও চোয়ালের প্লাস্টিক সার্জারি করান। অস্ত্রোপচারের পর চেহারায় এতটাই পরিবর্তন আসে যে পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের দেশে ফেরার ফ্লাইটে উঠতে দেওয়া হয়নি।
তৎকালীন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীনে ফেরার আগে তাদের এমন একটি নথি প্রয়োজন ছিল, যাতে প্রমাণ থাকবে যে তারা প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন এবং ওই নথিতে পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে পরিচয় মেলানো যাবে।
২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে ছবিটি পোস্ট করেন টেলিভিশন উপস্থাপক জিয়ান হুয়াহুয়া।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, তার এক বন্ধু দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিমানবন্দরে সদ্য প্লাস্টিক সার্জারি করানো একদল চীনা নারীকে দেখেছেন। তারা দেশে ফেরার ফ্লাইটে উঠতে পারছেন না এবং পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। পোস্টে রসিকতা করে তিনি লেখেন, এমন চেহারা দেখে তাদের মায়েরাও চিনতে পারবেন না।
পরে ওই পোস্টটি মুছে ফেলা হলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ঘটনাটির সঙ্গে আরও কিছু তথ্য যুক্ত করে দাবি করে, পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারা না মেলায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
তবে অনুসন্ধানের পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে ‘তথ্যভিত্তিহীন ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করে। অর্থাৎ, প্লাস্টিক সার্জারির পর পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারা না মেলায় ওই তিন নারীকে বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই চীনা নাগরিকদের প্লাস্টিক সার্জারির অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। তবে এই জনপ্রিয়তার বাস্তবতার সঙ্গে ভাইরাল ছবিটির গল্পকে মিলিয়ে দেখেই ঘটনাটিকে সত্য ধরে নেওয়া হয়েছিল বলে পরবর্তী অনুসন্ধানে উঠে আসে।


