

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি খাসজমি। তার ওপর লিজ নেওয়া চান্দিনা ভিটি। অথচ সেই দোকানই কিনতে হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা দিয়ে! মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় বাজারে সরকারি লিজের আওতাধীন দুটি দোকান বেচাকেনার এমন অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু এই দুটি দোকান নয়, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে সরকারি লিজের সম্পত্তি লাখ লাখ টাকায় বেচাকেনা হয়ে আসছে। প্রভাবশালী একটি মহলের সহযোগিতায় এসব বেচাকেনা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দিঘিরপাড় বাজারের বিছনপট্টি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লিজের আওতাধীন একটি দোকানে মুদি মালামালের ব্যবসা চলছে। সেখানে থাকা ব্যবসায়ী জানান, তিনি অল্প কিছুদিন আগে দোকানটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিজল মোল্লার মাধ্যমে দোকানটি ভাড়া নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মূলচর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ১৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের দিঘিরপাড় বাজারের বিছনপট্টির ৩৮৯ নম্বর দোকানসহ সরকারি খাসজমির ওপর থাকা চান্দিনা ভিটির দুটি দোকান প্রায় ৬৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইসমাইল পির গং ওই দোকান দুটি মূলচর গ্রামের জামাল মোল্লার ছেলে সজীব মোল্লার কাছে বিক্রি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান বিক্রির প্রক্রিয়ায় আব্দুল মান্নান খান, স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী মো. মামুন, রাসেল, সুমন খান ও দিঘীরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামীম মোল্লার চাচা এবং বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিজল মোল্লার সহযোগিতা ছিল। তবে অভিযোগে উল্লিখিত সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আব্দুল মান্নান খান বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বলেন, দোকান বিক্রিতে তিনি কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। যদিও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, দোকান বিক্রির প্রক্রিয়ায় তিনি সহযোগিতা করেছেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির চাচা দিঘিরপাড় বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিজল মোল্লা বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। তাই আগেই টঙ্গিবাড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে অবৈধভাবে বিক্রির বিষয়টি জানিয়েছি। এরপরও তারা কীভাবে দোকান বিক্রি করলেন, তা আমার জানা নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি, মান্নান খানের যোগসাজশে এই দোকান বিক্রি হয়েছে।’
বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু কাউসার সোহেল বলেন, ‘সরকারি লিজের চান্দিনা ভিটি বিক্রির কোনো নিয়ম নেই। আমি দোকান বিক্রির বিষয়ে কিছু জানি না।’
দোকানের ক্রেতা সজীব মোল্লার বড় ভাই বলেন, ‘ইসমাইল পির আমার ভাইয়ের বন্ধু। সে অনেক টাকা ঋণ করেছে। তাই আমার ভাই টাকা দিয়ে দোকানটি কিনে তাকে সহযোগিতা করেছে।’
এদিকে সরকারি খাসজমির ওপর লিজ নেওয়া দোকান এভাবে বেচাকেনা বা হস্তান্তরের সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বাজারের সরকারি লিজের সম্পত্তি বেচাকেনার বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য বের করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আনজুম সোহানিয়া বলেন, ‘সরকারি খাসজমির দোকান বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। আমি আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি নিয়ে এ ধরনের বেচাকেনা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে দিঘিরপাড় বাজারে অতীতে বেচাকেনা হওয়া সরকারি লিজের সম্পত্তির তথ্য যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


