

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নিয়োগে জাল স্বাক্ষর, ভুয়া চিঠি ও জাল বোর্ড গঠনের অভিযোগে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চারটি মাদ্রাসার দুই সুপার ও দুই অধ্যক্ষের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ সোনারীপাড়া মীম ছীন বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইস্কেন্দার মির্জার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
গত ২ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ইস্কেন্দার মির্জার আগস্ট মাসের বেতন-ভাতা স্থগিতের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন, তা জানতে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, সোনারীপাড়া মাদ্রাসায় ‘মাসুদ রানা’ নামের এক ব্যক্তিকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাঁর নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের সময় নিয়োগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়ে। অভিযোগ ওঠে, ওই নিয়োগে মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া চিঠি তৈরি এবং জাল নিয়োগ বোর্ড গঠন করে ফলাফল শিট প্রস্তুত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর মাসুদ রানার এমপিও আবেদনটি বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসাটির সুপার ইস্কেন্দার মির্জার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে ইস্কেন্দার মির্জা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘যথাযথ নিয়ম মেনেই ডিজি প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওর উপস্থিতিতে নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন হয়েছে। আমার বেতন কেন বন্ধ করা হয়েছে, তা জানা নেই।’
তবে চিলমারীতে এ ধরনের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ২৯ জুন একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগে আরও তিন মাদ্রাসা প্রধানের বেতন-ভাতা স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। তাঁরা হলেন রাজারভিটা ইসলামিয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুর ইসলাম, কুটিরগ্রাম এম.এইচ. বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. মাহফুজার রহমান খন্দকার এবং চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হক।
অভিযোগের বিষয়ে মো. রফিকুর ইসলাম, মো. মাহফুজার রহমান খন্দকার ও মো. নাজমুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অধিদপ্তর থেকে তাঁদের চিঠি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি প্রয়োজন হলে খতিয়ে দেখে আমরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’


