সোমবার
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘থানা আছে যেই মৌজায়, উপজেলা চাই সেই মৌজায়’

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার বাসিন্দাদের মানববন্ধন। ছবি: এনপিবি
expand

‘থানা আছে যেই মৌজায়, উপজেলা চাই সেই মৌজায়’—এই স্লোগানে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা সদর দপ্তর উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ী মৌজার পরিবর্তে উপজেলার আট ইউনিয়নের তুলনামূলক কেন্দ্রস্থল পাগলা মৌজায় স্থাপনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আয়োজিত মানববন্ধনে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, লংগাইর, পাইথল, দত্তের বাজার, নিগুয়ারী ও টাঙ্গাব—এই আটটি ইউনিয়ন নিয়ে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৮ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত সরকারি গেজেটে উপজেলা সদর উস্থি ইউনিয়নের ১৪৩ নম্বর নয়াবাড়ী মৌজায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাদের দাবি, আটটি ইউনিয়নের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নয়াবাড়ী তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক এলাকায় অবস্থিত। অন্যদিকে ১৬৩ নম্বর পাগলা মৌজা আট ইউনিয়নের তুলনামূলক মধ্যবর্তী এলাকায় হওয়ায় অধিকসংখ্যক মানুষের জন্য যাতায়াত ও সরকারি সেবা গ্রহণ সহজ হবে।

বক্তারা আরও বলেন, পাগলায় ইতোমধ্যে পাগলা থানা, দক্ষিণ গফরগাঁও এলাকার একমাত্র হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি মাওনা-গফরগাঁও আঞ্চলিক মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগও রয়েছে। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে সেখানে উপজেলা সদর স্থাপন করা গেলে সরকারের নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়নে ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা পাগলা থানার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও তুলে ধরেন। তারা বলেন, ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে তৎকালীন পাটমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ এলাকা পরিদর্শন করে পাগলায় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে সেটি পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তরিত হয়। স্থানীয় জনগণ সে সময় সরকারকে ৩০১ শতাংশ জমি বিনামূল্যে দিয়েছিলেন বলেও তারা জানান।

বর্তমানে উপজেলা সদর স্থাপনের জন্য স্থানীয় জনগণ আরও প্রায় ৫ থেকে ৬ একর জমি বিনামূল্যে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে মানববন্ধনে জানানো হয়। একই সঙ্গে ভূমি উন্নয়ন ও নিচু জমি ভরাটের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বক্তারা জানান, উপজেলা সদর নির্ধারণের বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। রিট পিটিশন নম্বর ৯৭৭৫/২০২৬-এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ ভৌগোলিক কেন্দ্রিকতা, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনগণের সহজ প্রবেশগম্যতার মতো বিষয় বিবেচনার কথা বলেছেন এবং ১৪৩ নম্বর নয়াবাড়ী মৌজায় পরবর্তী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তারা দাবি করেন।

তাদের ভাষ্য, ‘এই দাবি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; এটি সম্পূর্ণ জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক যৌক্তিকতার দাবি।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা সদর নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট আট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক, নারী প্রতিনিধি, তরুণ সমাজ ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে ব্যাপক গণশুনানি বা জনপরামর্শ করা হয়নি। তাই তারা জনগণের মতামত নিয়ে সদর দপ্তরের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

তারা বলেন, পাগলা থানা ভবনের পাশে মাওনা-গফরগাঁও আঞ্চলিক মহাসড়কের সংলগ্ন এলাকায় উপজেলা সদর স্থাপন করা হলে উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে। একই এলাকায় বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় জনগণের সময় ও যাতায়াত ব্যয়ও কমবে।

মানববন্ধনে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও তুলে ধরা হয়। এসব মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে মামলা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দিদের মুক্তির দাবি জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে প্রধান দাবিগুলো

১. উস্থি ইউনিয়নের ১৪৩ নম্বর নয়াবাড়ী মৌজায় উপজেলা সদর স্থাপনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ২. আট ইউনিয়নের তুলনামূলক মধ্যবর্তী ১৬৩ নম্বর পাগলা মৌজায় উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করতে হবে। ৩. পাগলা থানা ভবন সংলগ্ন মাওনা-গফরগাঁও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে উপজেলা কমপ্লেক্সের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করতে হবে। ৪. স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে প্রস্তাব করা ৫–৬ একর জমি প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। ৫. উপজেলা সদর নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট জনগণের অংশগ্রহণে গণশুনানি করতে হবে। ৬. আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগিত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank