

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইতালির সারদিনিয়া দ্বীপের ওলবিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি এশিয়ান রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক রায়হানসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওলবিয়া শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত Ichi Asian Fusion রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটে রাত সাড়ে ২টার দিকে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি প্রথমে রেস্টুরেন্টের পাশের একটি বাঙালি মালিকানাধীন পিৎজা-কাবাবের দোকানে দৌড়ে প্রবেশ করেন। সেখানে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে দ্রুত Ichi Asian Fusion রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে ওই ব্যক্তি চিৎকার করে বলতে থাকে "আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও, কয়েকজন আমাকে মেরে ফেলার জন্য তাড়া করছে"। এ সময় রেস্টুরেন্টের বসের সহধর্মিণী এলেনা তাকে রান্নাঘরে (Cucina) যেতে বলেন এবং তিনি পুলিশে কল করার কথা জানান।
কিন্তু সাহায্য নেওয়ার পরিবর্তে ওই ব্যক্তি হঠাৎ তার আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করে। সে ধারালো ছুরি দিয়ে এলেনা'র গলায় ধরে টাকা দাবি করে। প্রায় ২-৩ মিনিট ধরে সে গলায় ছুরি ধরে রাখে এবং কেউ সামনে এগিয়ে এলে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। ওই ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সেদিন শুক্রবার ছিল এবং বাংলাদেশি কর্মী রায়হানের ছুটি ছিল। তিনি রেস্টুরেন্টের সামনেই ছিলেন এবং মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘটনা দেখে তিনি দৌড়ে রেস্টুরেন্টের ভিতরে ঢোকেন।
রায়হান বলেন, "যখন বসের স্ত্রীর গলায় ছুরি ধরেছিল, তখন আমরা কেউ সামনে যাইনি, কারণ সামনে গেলেই গলায় ছুরি মেরে দিত। ২-৩ মিনিট পর যখন দেখলাম লোকটা আস্তে আস্তে পিছনে ঝুকে পড়ছে, তখন আমি এবং আরও ২-৩ জন সিয়াম মোল্লা এবং সালমান সহ সবাই মিলে বসের স্ত্রীকে উদ্ধার করতে যাই। ঠিক তখন সে বাংলাদেশী রায়হানেত উপর ছুরি দিয়ে হামলা করে এবং বেশ কয়েক জায়গায় ক্ষত করে করে, পরবর্তীতে আমি তার হাত থেকে ছুড়ি টেনে নিই এবং উদ্ধারকৃত পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তাদের কাছে প্রেরণ করি।
এই হামলায় ৪ জন আহত হন - একজন নাইজেরিয়ান, একজন ইতালিয়ান, একজন ব্রাজিলিয়ান এবং বাংলাদেশি রায়হান। তাদের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে উপস্থিত সবাই মিলে ডাকাতকে আটক করে মারধর করে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে তাকে উদ্ধার করে।
আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওলবিয়ার জিওভান্নি পাওলো II হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা একরাত চিকিৎসাধীন থাকার পর পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় বাসায় ফেরেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আহতদের ১৪ দিনের বিশ্রামের নির্দেশ দিয়েছে।
এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো ঘটনা তদন্তে রেখেছেন এবং আসামীর বিরুদ্ধে মামলার ব্যাবস্থা নিয়েছেন।


