

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এপ্রিলে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলাকালে এতে অংশ নেয়া ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরায়েল। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেরকে ইরানকে সতর্ক করতেও বলেছিল। মার্কিন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা এমনটিই জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে বলে জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিলে আলোচনা তীব্র হওয়ার সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং দেশটির সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন ছিল যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে তেহরানকে সতর্ক করতে অনুরোধ করেছিল, যাতে ইরানের শীর্ষ আলোচকদের ওপর সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির বিষয়ে তারা অবগত থাকে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হওয়ার পর যদি কোনো গুপ্তহত্যা হতো, তাহলে আলোচনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যেত এবং সংঘাত আবারও শুরু হতো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন জানতে পেরেছিল, অন্তত বাঘের গালিবাফের নাম ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রাখা হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে এমন পদক্ষেপ না নেয়ার আহ্বান জানায়।
এতে ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আরও বলা হয়েছে, তেহরান পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই নিশ্চয়তা চেয়েছিল যে, কূটনৈতিক বৈঠকের সময় ইসরায়েল তাদের আলোচক দলকে লক্ষ্যবস্তু করবে না।
প্রতিবেদনে এপ্রিল মাসের একটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণও দেয়া হয়, যেখানে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে শনাক্ত করার পর ইসলামাবাদ থেকে গালিবাফের ফিরতি ফ্লাইটটি মাশহাদে ঘুরিয়ে দেয়া হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের কর্মকর্তারা এই অভিযোগগুলো সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, আমেরিকান ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান শান্তি প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে এগিয়ে যাক।

