

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে। এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারের সাথে সমন্বয় করতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়। এদিকে জ্বলানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরই গণপরিবহনের ভাড়াও বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে বাস মালিকরা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, তাদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৪০ শতাংশ বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ (রোববার) রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরবিহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রধান করার্যলয়ে বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা থাকবেন বলেও জানা গেছে।
এ বৈঠকে সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথ এবং নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বর্তমানে চট্টগ্রামে থাকায় তিনি অনলাইনে এ বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। সেই মিটিংয়ে পরিবহন মালিক , শ্রমিক নেতারা থেকে ভাড়া নির্ধারনের বিষয় সিদ্ধান্ত আসবে।
সবশেষ ২০২২ সালের ৫ আগস্ট ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। যা আগের দামের তুলনায় প্রায় ৪২.৫ শতাংশ বেশি ছিল। যদিও পরে বেশ কয়েকবার সমন্বয় করা হয়। সর্বশেষ শনিবার দাম বৃদ্ধির আগ পর্যন্ত লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা।
২০২২ সালে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর সার্বিক বিবেচনায় পরিবহন নেতারা দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়ে ২ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব দেন। তবে তৎকালীন সরকার সেটি আমলে না নিয়ে দূরপাল্লার ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২২ শতাংশ বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৬ জুন তেলের দামের সঙ্গে ভাড়া সমন্বয় করে সেটি কমিয়ে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস মালিক এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘বাস ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানি তেলের দামই একমাত্র বিষয় নয়। গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক খরচ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি গাড়ির নিজস্ব মূল্য, তার লাইফটাইম এক্সপেন্স, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চাকা, ইঞ্জিন ওয়েল এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টস— সব মিলিয়ে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হয় মালিকদের। সে বিষয়গুলো বিবেচনা করে ভাড়া বাড়ানো উচিত।’
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন এনপিবি নিউজকে বলেন, দেশে সব কিছুর দাম বৃদ্ধি হলে গণপরবিহনের ভাড়া অনেক বছর ধরে বাড়াচ্ছে না সরকার। গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক খরচ রয়েছে সেগুলো ব্যয় কিন্তু বহুগুনে বেড়েছে। কিন্তু আমাদের গণপরিবহনে আর ভাড়া বাড়ায়নি। তাই সব মিলিয়ে আমরা সমিতি থেকে ৪০ শতাংশ বাস ভাড়া বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দিবো।’
এদিকে বাস ভাড়া ১৫ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলছে, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে পুঁজি করে বাস মালিক সমিতির সরকার সমর্থিত প্রভাবশালী নেতারা অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সরকারের সাথে মিলে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে। রাতের আধারে ভাড়া বৃদ্ধির গোপন বৈঠক এমন চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয় বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, নিকট অতীতে ৩ দফা জ্বালানি তেলের মূল্য ৩ টাকা হারে কমানোর প্রেক্ষিতে বাস ভাড়া ৩ পয়সা হারে কমানো হয়েছে; ২ টাকা কমানোর প্রেক্ষিতে ২ পয়সা হারে ভাড়া কমানো হয়েছে।
এবার প্রতিলিটার ডিজেলের মূল্য ১৫ টাকা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা হারে বৃদ্ধির জন্য দেশের যাত্রী সাধারণের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘সরকার যখন তেলের দাম বৃদ্ধি করে সেই সময়ে কিন্তু নির্ধারন করা উচিত গণপরবিহনে ভাড়া কতো শতাংশ বাড়ানো দরকার। তাছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে আরো অনেক কিছুর দাম বেড়ে যায়। সে চাপ কিন্তু যাত্রীদের উপর পরে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন মালিক সমিতি থেকে যে প্রস্তাব দিবে সেটার ভালোভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে এর কতটুকু যৌক্তিকতা আছে। সে অনুযায়ী বাড়াতে হবে বলে।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মন্তব্য করুন
