সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তনু হত্যা মামলা

‘৩ নয়, ডিএনএ পরীক্ষায় ৪ পুরুষের নমুনা পাওয়া গেছে’

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
সোহাগী জাহান তনু
expand
সোহাগী জাহান তনু

দীর্ঘ এক দশক ধরে আলোচিত ও রহস্যে ঘেরা সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন করে সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এতে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, কয়েক মাস আগে সিআইডির কাছে পাঠানো এক চিঠির জবাবে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনায় তিনজনের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের উপস্থিতি মিলেছে।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালে তিনজনের ডিএনএ তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এখন নতুন করে আরেকজনের রক্তের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। পরিবার ও সহপাঠীদের অভিযোগ ছিল, তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার পরদিন তনুর বাবা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তবে তদন্তের শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন প্রকাশিত দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে পারেনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। ফলে মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে ডিএনএ পরীক্ষা।

২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি জানায়, তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া গেছে। একই বছরের অক্টোবরে তনুর মায়ের সন্দেহের ভিত্তিতে তিন ব্যক্তিকে ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। যদিও তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সম্প্রতি মামলাটি আবারও আলোচনায় আসে সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তারের পর। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করে পিবিআই। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা তনুর পোশাকে পাওয়া আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো সেই পরীক্ষার ফল হাতে পায়নি তদন্ত সংস্থা।

হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময়ও তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দীর্ঘদিনেও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে তনুর পরিবার, সহপাঠী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে। নতুন ডিএনএ তথ্য মামলার তদন্তে নতুন গতি আনবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন