

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে নতুন বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র । দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাইটে এর বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
এটি গত মাসে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নেওয়া পদক্ষেপ, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল করা হয়েছিল।
তদন্তের আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা নিয়ে তদন্তের ভিত্তিতে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর পণ্যের ওপর এই গ্রীষ্মের মধ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্য প্রমাণিত হয়, তবে সেই দেশের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা যাবে।’
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা। গ্রিয়ার আশা করছেন, এ তদন্তের মধ্যেই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলের ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ অবৈধ।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না; সংবিধান অনুযায়ী এই ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের মতো অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন।’
রায়ের পর ট্রাম্প আবারও ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন এবং তা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন।
গত বছর এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ১০–৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এরপর বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, যেখানে শুল্কের হার কিছুটা কমানো হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, চুক্তি বাতিল হচ্ছে না এবং সম্মত শর্তগুলো মেনে চলা হবে।
নতুন এই তদন্তের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি আরও জোরদার করতে পারবে।
এদিকে, এই সপ্তাহের শেষে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠক মার্চের শেষে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের জন্য ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
মন্তব্য করুন
