

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে চান না নেইমার। ব্রাজিলিয়ান এই তারকার সঙ্গে সান্তোসের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ডিসেম্বর। এরপর তার পথ কোন দিকে যাবে। সান্তোসে থাকবেন, নতুন কোনো ক্লাবে যাবেন, নাকি ফুটবলকে বিদায় জানাবেন—সেই সিদ্ধান্ত সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
সোমবার সাও পাওলোতে নেইমার জুনিয়র ইনস্টিটিউটের একটি দাতব্য নিলামে অংশ নিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে নেইমার জানান, ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই ভাবতে চান না। তার বর্তমান লক্ষ্য হলো সান্তোসের হয়ে চুক্তির মেয়াদ শেষ করা এবং দলের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়া।
নেইমার বলেন, তিনি জানেন না আর কতদিন খেলতে পারবেন। তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত সান্তোসের সঙ্গে থাকা চুক্তি পূরণ করতে চান। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন—ক্লাবে থাকবেন, অন্য কোথাও যাবেন, নাকি খেলা চালিয়ে যাবেন।
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানান, সামনে এখনো অনেক সময় রয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে আপাতত এক ম্যাচ করে এগিয়ে যেতে চান তিনি। নিজের শারীরিক অবস্থাও ভালো বলে উল্লেখ করেছেন নেইমার।
সান্তোসের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে নেইমারের। কোপা দো ব্রাজিলের শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে রেমোর মুখোমুখি হবে সান্তোস। প্রথম ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হওয়ায় পরের পর্বে যেতে হলে এই ম্যাচে জয় প্রয়োজন দলটির।
নিজের খেলার প্রস্তুতি নিয়ে নেইমার বলেন, সুযোগ পেলে মাঠে নেমে দলকে জেতাতে সহায়তা করতে চান তিনি। একই সঙ্গে মজার ছলে মন্তব্য করেন, সান্তোসে কী ঘটছে—তা খেলোয়াড়দের জানার আগেই অনেক সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে যায়।
ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য এর আগে ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নেইমার। কোপা সুদামেরিকানার একটি ম্যাচের পর তিনি বলেছিলেন, ব্রাজিলের জার্সিতে তার সময় শেষ হয়ে গেছে। দেশের হয়ে দীর্ঘ পথচলা ও অর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন।
এর আগে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিল বিদায় নেওয়ার পরও জাতীয় দল থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে নেইমারের বাবা নেইমার সান্তোস সিনিয়র মনে করেন, ছেলের ওই বক্তব্যকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তার মতে, সেটি ছিল নেইমারের তখনকার আবেগ ও অনুভূতির প্রকাশ, কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়।
নেইমার সিনিয়র বলেন, একটি কঠিন বিশ্বকাপের পর এমন অনুভূতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। পরবর্তী বিশ্বকাপের এখনো কয়েক বছর বাকি থাকায় এত আগে ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
নেইমারের ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে তাই এখনো অপেক্ষা করতে হবে। আপাতত তার লক্ষ্য সান্তোসের হয়ে মাঠে পারফর্ম করা এবং নিজের ফিটনেস ধরে রাখা।