মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হত্যা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আবু বকর ছিদ্দিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। এতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন ও একই ইউনিয়নের চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

আদালত সূত্র জানায়, সালেহা বেগম নামে এক বৃদ্ধা নারীকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আবু বকর চার্জশিটভুক্ত আসামি। ওই নারীকে গোপনে বিয়ে করেন তিনি। পরে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। জমি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মো. সেলিম নামে ভাসমান এক ব্যক্তিকে দিয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে সালেহাকে হত্যা করান।

চার্জশিট ও থানা পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগরের মতিরহাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে নুনু সর্দারের পরিত্যক্ত ভিটায় সাহেলা বেগমের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতদের নামে মামলা করেন। কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সেলিম স্বীকার করেন, সালেহাকে নির্জন স্থানে নিয়ে তিনি গলা টিপে অচেতন করেন। পরে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

চার্জশিটে উল্লেখিত সেলিমের জবানবন্দি অনুযায়ী, সালেহার সঙ্গে আবু বকর ছিদ্দিকের গোপনে বিয়ে হয়। জমি কেনার কথা বলে সালেহার কাছ থেকে আবু বকর ৩০ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু জমি কিনে না দিয়ে উল্টো আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আবু বকর ছিদ্দিক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সালেহাকে হত্যার জন্য সেলিমকে ভাড়া করে।

সেলিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে থানা পুলিশ সেলিম এবং আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আসামি সেলিম কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন