মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

স্ট্রোক সাধারণত হঠাৎ ঘটে, তবে এর পেছনে দীর্ঘদিনের কিছু ঝুঁকির কারণ কাজ করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপনে ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে স্ট্রোকের আশঙ্কা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১. নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন

উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণগুলোর একটি। দীর্ঘ সময় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে মস্তিষ্কের রক্তনালিতে চাপ পড়ে এবং ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।

২. প্রতিদিন শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা অন্য কোনো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।

৩. ধূমপান থেকে দূরে থাকুন

ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করে, রক্তচাপ বাড়ায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এমনকি অন্যের ধূমপানের ধোঁয়াও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নিজের পাশাপাশি ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশও এড়িয়ে চলা উচিত।

৪. ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরল দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালির ক্ষতি করে। কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি।

৫. সতর্ক সংকেতকে অবহেলা করবেন না

স্ট্রোকের কিছু লক্ষণ হঠাৎ দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্টভাবে বলতে না পারা
  • শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
  • মুখ বেঁকে যাওয়া
  • হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা
  • ভারসাম্য হারানো বা তীব্র মাথা ঘোরা

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে জটিলতা কমানো সম্ভব।

৬. খাদ্যাভ্যাসে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনুন

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণ শস্য এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, ট্রান্স ফ্যাট ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে, যা স্ট্রোক প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন