

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ঘিরে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সেগুলোকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর ইউরোপীয় ফুটবল মহলে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু উয়েফাই নয়, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার কিছু ফুটবল প্রশাসকও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।
এদিকে ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ইউরোপীয় গণমাধ্যমে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকজন প্রভাবশালী ফুটবল প্রশাসকের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন,
ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ানি
সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে কনক্যাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ানির নাম। কানাডার এই ক্রীড়া সংগঠক দীর্ঘদিন ধরেই ফিফার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের যৌথ পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল প্রশাসনে অভিজ্ঞতা এবং উত্তর আমেরিকার সমর্থন তাঁকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।
শেখ সালমান
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা নতুন নন। ২০১৬ সালের নির্বাচনেও তিনি ফিফা সভাপতির দৌড়ে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ফিফার কয়েকটি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় অনেকেই মনে করছেন, প্রয়োজন হলে তিনি আবারও নেতৃত্বের লড়াইয়ে ফিরতে পারেন।
আলেক্সান্দার সেফেরিন
উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন ইনফান্তিনোর অন্যতম কড়া সমালোচক। ইউরোপীয় ফুটবলে তাঁর প্রভাবও কম নয়। যদিও তিনি এখন পর্যন্ত প্রার্থী হওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি, তবু ইনফান্তিনোর বিকল্প নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হলেই তাঁর নাম উঠে আসে। অনেকের ধারণা, তিনি নিজে না লড়লেও একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থীর পক্ষে ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন।
ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম
বর্তমান ফিফা মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে অনেকেই নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য প্রশাসক হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক বিতর্কগুলোর সঙ্গে তাঁর নাম জড়ায়নি। ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে অন্তর্বর্তী কিংবা স্থায়ী—দুই ধরনের ভূমিকাতেই তাঁর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
নাসের আল-খেলাইফি
পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি আন্তর্জাতিক ফুটবলে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ক্লাব ফুটবল, সম্প্রচার ব্যবসা এবং ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনে তাঁর প্রভাব থাকায় অনেকেই তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, আপাতত ফিফা সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর।
প্যাট্রিস মোটসেপে
আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) সভাপতি প্যাট্রিস মোটসেপেও আলোচনার বাইরে নন। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তাই বর্তমান সভাপতি পুনর্নির্বাচনে অংশ নিলে মোটসেপের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
ফিফা সভাপতি নির্বাচন এখনো অনেক দূরের বিষয়। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী নির্বাচন আগেরবারের মতো একপেশে নাও হতে পারে। ইনফান্তিনো আবার প্রার্থী হন কি না, কিংবা বিরোধী শিবির শেষ পর্যন্ত একজন প্রার্থীর পেছনে একজোট হতে পারে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী নেতৃত্ব।