

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফুটবল মাঠে যে নামেই তাকে চিনেছে বিশ্ব, নতুন ক্লাবে গিয়ে সেই পরিচয়টাই হয়তো হারাতে হবে ভোজিনিয়াকে। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আলোচনায় আসা কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোতে যোগ দিলেও জার্সিতে নিজের বিখ্যাত ডাকনাম ব্যবহারের অনুমতি পাচ্ছেন না।
চিলিয়ান পেশাদার ফুটবলের নিয়মই তৈরি করেছে এই জটিলতা। দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএনএফপির বিধি অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের জার্সির পেছনে পরিচিত ডাকনাম বা উপাধি ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় ‘ভোজিনিয়া’ নামটির বদলে তাকে নিজের পারিবারিক নাম ব্যবহার করতে হতে পারে।
সংবাদমাধ্যম রেডগোল জানিয়েছে, চিলির ফার্স্ট ডিভিশনের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে জার্সির নাম ব্যবহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়দের জার্সিতে বাবার এবং/অথবা মায়ের পারিবারিক নাম লিখতে হবে। প্রয়োজনে নামের প্রথম অক্ষর যোগ করা যেতে পারে, তবে ডাকনাম বা কোনো বিশেষ উপাধি ব্যবহারের অনুমতি নেই।
ভোজিনিয়ার আসল নাম জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস। তবে ফুটবল বিশ্বে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন তার শৈশবের ডাকনামেই। পর্তুগিজ ভাষায় ‘ভোজিনিয়া’ শব্দের অর্থ ‘দাদি’। ছোটবেলায় কেপ ভার্দের সান ভিসেন্তে দ্বীপের মিন্দেলো শহরে দাদির কাছেই বড় হয়েছেন জোসিমার। তার মা কাজে ব্যস্ত থাকতেন, আর বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীতে।
শৈশবের সেই দিনগুলোর এক ঘটনা থেকেই তৈরি হয় তার পরিচিতি। বয়সে বড় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে মার খেয়ে দাদির কাছে ছুটে যেতেন তিনি। বন্ধুদের কাছে সেই বিষয়টি এতটাই পরিচিত হয়ে যায় যে, ভালোবেসেই তাকে ‘ভোজিনিয়া’ নামে ডাকতে শুরু করে তারা। পরে সেই ডাকনামই হয়ে ওঠে তার ফুটবল পরিচয়ের অংশ।
তবে নতুন ক্লাবে এই নাম ধরে রাখতে চাইলে ভিন্ন পথ খুঁজতে হবে তাকে। রেডগোলের তথ্য অনুযায়ী, কোলো কোলোকে চিলিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কাউন্সিলের কাছে নিয়ম পরিবর্তনের আবেদন করতে হবে। অনুমোদন না মিললে জার্সিতে ব্যবহার করতে হবে তাঁর আনুষ্ঠানিক নাম।
২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে ভোজিনিয়া ছিলেন অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়। শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাঁর দুর্দান্ত গোলকিপিং নজর কেড়েছিল। পুরো টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বকাপের সেরা একাদশেও জায়গা করে নেন তিনি। যদিও সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ‘গোল্ডেন গ্লাভ’ জিতেছিলেন স্পেনের উনাই সিমন।
বিশ্বকাপ শেষে পর্তুগালের ক্লাব চাভেসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ফ্রি এজেন্ট হয়ে যান এই গোলরক্ষক। এ সময় লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামিতে তার সম্ভাব্য যোগদানের গুঞ্জনও উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।