

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে বসে পড়লেন নেইমার জুনিয়র। চোখের জল আর ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড। সতীর্থরা ঘিরে ধরে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের বেদনা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। ম্যাচ শেষে তার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় মিলেছে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইঙ্গিত।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। তবে সেই গোল পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী জিই টিভিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আবেগাপ্লুত নেইমার বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার পথচলা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’
নেইমারের এই বক্তব্যকে অনেকেই জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ অধ্যায়ের সমাপ্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি।
২০১০ বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্র সফরেই তৎকালীন কোচ মানো মেনেজেসের অধীনে প্রথমবার ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন নেইমার। সেই স্মৃতির প্রসঙ্গ টেনেই বিদায়ের মুহূর্তে আবেগঘন মন্তব্য করেন তিনি।
এটি ছিল নেইমারের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬—চারটি আসর খেলেও বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ পাওয়া হলো না তার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটি অধরাই থেকে গেল।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নেইমার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ২০২৬ আসরই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই নরওয়ের বিপক্ষে পরাজয়ের পর তার অশ্রু শুধু একটি ম্যাচ হারার হতাশা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে লালন করা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার প্রতীক হিসেবেই ধরা দিল ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।
