

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ফুটবল লড়াই গত দুই দশক ধরে পুরো দুনিয়াকে বুঁদ করে রেখেছে। ২০০৭ সালে ফিফা বর্ষসেরার মঞ্চে কিংবদন্তি পেলের হাত ধরে যে ঐতিহাসিক যাত্রার আভাস পাওয়া গিয়েছিল, তা পরে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়ে রূপ নেয়।
এরপরের টানা ১০ বছর ব্যালন ডি’অরসহ ফুটবলের সব বড় পুরস্কার এই দুজনই নিজেদের করে নিয়েছেন। ২০০৭ সাল থেকে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়ের ২৯টি পুরস্কারের মধ্যে ২০টিই গেছে তাদের ঝুলিতে। দুজনে মিলে ক্যারিয়ারে প্রায় ২,০০০ গোল এবং ক্লাব ও দেশের হয়ে ৮৫টি ট্রফি জিতেছেন, যা ফুটবল খেলার ধরন ও এর উন্মাদনাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
মাঠের এই লড়াই শুধু দুটি ক্লাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা রূপ নিয়েছিল পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনা বনাম জোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ এবং অ্যাডিডাস বনাম নাইকির মতো বড় করপোরেট যুদ্ধে।
শৈশবের পারিবারিক টানাপোড়েন ও অল্প বয়সে ঘর ছাড়ার মতো একই রকম সংগ্রাম করে বড় হলেও, মাঠে তারা ছিলেন সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রের প্রতীক:
লিওনেল মেসি হলেন লাজুক ও সহজাত প্রতিভার অধিকারী এক জাদুকরী ড্রিবলার। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কঠোর পরিশ্রমী ও অবিশ্বাস্য শারীরিক ক্ষমতাসম্পন্ন এক গোলমেশিন।
২০০৯ সালে রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর স্পেনে লা লিগার এক স্বর্ণযুগ শুরু হয়। স্পেনে কাটানো নয়টি মৌসুমে রিয়ালের হয়ে রোনালদো ৪৫০টি এবং বার্সার হয়ে মেসি ৪৭১টি গোল করেন। মাঠের এই লড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে কোটি কোটি ভক্তের হাতের মুঠোয় পৌঁছে যায়।
২০১৭ সালে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোল করার পর মেসির নিজের জার্সি উঁচিয়ে ধরার আইকনিক উদযাপন এবং পরবর্তীতে রোনালদোর একই রকম পাল্টা জবাব- তাদের ভেতরের তীব্র জেদ ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইকেই ফুটিয়ে তোলে।
পরবর্তীতে স্পেনের অধ্যায় শেষ করে রোনালদোর জুভেন্টাস, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও আল-নাসরে যাওয়া এবং মেসির পিএসজি ও ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়া ফুটবলের পাশাপাশি এক বিশাল বাণিজ্যিক বিপ্লব ঘটায়। কোটি কোটি জার্সি বিক্রি থেকে শুরু করে ইনস্টাগ্রামে শত মিলিয়নের অনুসারী দল- সব মিলিয়ে তারা একেকজন জীবন্ত অর্থনীতিতে পরিণত হন।
ফোর্বসের ধনী ক্রীড়াবিদের তালিকায় রোনালদোর ৩০০ মিলিয়ন ও মেসির ১৪০ মিলিয়ন ডলার আয় এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে তাদের একসঙ্গে দাবা খেলার সেই ঐতিহাসিক ছবি যেন তারই প্রমাণ।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও মোট গোলের পরিসংখ্যানে রোনালদো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, রেকর্ড সংখ্যক ব্যালন ডি’অর এবং আর্জেন্টিনার হয়ে দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ জিতে মেসি সর্বকালের সেরা বা ‘গোট’ (GOAT) বিতর্কে অনেকটা এগিয়ে গেছেন।
তবে এই দুই মহানায়কের মহাকাব্যিক লড়াই এখনো পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি। আসন্ন বিশ্বকাপে যদি আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল নকআউট পর্বে মুখোমুখি হয়, তবে ফুটবল বিশ্ব হয়তো এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দ্বৈরথের চূড়ান্ত ও শেষ দৃশ্যটি দেখার সুযোগ পাবে।
