রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তনু-আছিয়া-নুসরাত-রামিসা

আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায়, কার্যকর প্রশ্নে অনিশ্চয়তা!

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০১:১১ পিএম
ভুক্তভোগী আছিয়া-রামিসা-তনু-নুসরাত
expand
ভুক্তভোগী আছিয়া-রামিসা-তনু-নুসরাত

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলছে। ইতোমধ্যেই আসামি সোহেল রানাকে ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

দেশের সাধারণ শ্রেণীপেশার মানুষ দ্রুত এই রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আইনি জটিলতায় অতীতে ঘটে যাওয়া এমন অসংখ্য অপরাধের বিচার এখনো ঝুলে রয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত মাত্র চার মাসে দেশে কমপক্ষে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে আরও ১৭ জন শিশু।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো কঠোর আইনি কাঠামো থাকা সত্ত্বেও, বিচারিক প্রক্রিয়ার জটিলতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ভুক্তভোগীরা কাঙ্ক্ষিত বিচার পাচ্ছেন না বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফৌজিয়া করিম ফিরোজ।

সরকারি তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৮ বছরে সংঘটিত বেশ কয়েকটি আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মামলায় নিম্ন আদালতে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও, উচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তি ও আইনি জটিলতার দীর্ঘসূত্রতায় তা এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

এমনই কয়েকটি বহুল আলোচিত ও ঝুলে থাকা মামলার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো-

১. নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা (২০১৯, ফেনী): মাদরাসাছাত্রী নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে ২০১৯ সালে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দীর্ঘ সময় ধরে হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় ঝুলে আছে।

২. রসু খাঁ সিরিয়াল কিলিং মামলা (২০১১, চাঁদপুর): দেশের অন্যতম আলোচিত এই সিরিয়াল কিলার ১১ জন নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। হাইকোর্ট ফাঁসির রায় বহাল রাখলেও দীর্ঘ সময় ধরে তা কার্যকর হয়নি এবং তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।

৩. জাকিয়া সুলতানা রুপা হত্যা মামলা (২০১৭, টাঙ্গাইল): চলন্ত বাসে জাকিয়া সুলতানা রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ২০১৮ সালে নিম্ন আদালত চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট আসামিদের সাজা কমিয়ে রায় প্রদান করে।

৪. সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা (২০১৬, কুমিল্লা): কুমিল্লা সেনানিবাসে নাট্যকর্মী তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার এই আলোচিত মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ দশ বছরেও চূড়ান্ত পরিণতি পায়নি।

৫. আছিয়া আক্তার হত্যা মামলা (২০২৫, মাগুরা): আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আদালত প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলেও, উচ্চ আদালতে আপিলের কারণে দণ্ড কার্যকর আটকে আছে।

বাংলাদেশে নিয়মানুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আপিল বিভাগে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হয়। এ ছাড়া মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশজুড়ে আলোচিত নানা অপরাধের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি হলেও কয়েক হাজার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আপিল ও রিভিউ প্রক্রিয়ায় কারাগারে অপেক্ষায় আছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন