

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আজ ৭ জুন, বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ তথা ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের এই দিনে ছয় দফা দাবির সমর্থনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পালিত সর্বাত্মক হরতাল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন আন্দোলনকারী নিহত হন। তাদের আত্মত্যাগ ছয় দফা আন্দোলনকে গণমানুষের আন্দোলনে পরিণত করে এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথকে সুগম করে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক মুক্তির সনদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই কর্মসূচি উত্থাপন করেন।
তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার বৈষম্য দূর করে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ন্যায্য অধিকার ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা ছিল এর মূল লক্ষ্য।
ছয় দফা ঘোষণার পর তা দ্রুত পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানায়। তবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ছয় দফাকে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেয়। গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যেও আন্দোলন ক্রমেই বিস্তৃত হতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৬ সালের ৭ জুন আওয়ামী লীগের ডাকা দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। হরতাল সফল করতে রাজপথে নেমে আসেন হাজারো মানুষ। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হন। তাঁদের রক্তে রঞ্জিত ৭ জুন পরবর্তীকালে ছয় দফা দিবস হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছয় দফা আন্দোলনই বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত্তি সুদৃঢ় করে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের গণ–অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
