

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইউরোপের মাটিতে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।
ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে পরাজিত করে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
সান মারিনোর সেরাভালে অবস্থিত স্তাদিও অলিম্পিকো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের প্রধান নায়ক ছিলেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ।
দলের হয়ে দুটি গোল করে তিনি ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাগতিকদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।
শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে মোরছালিনের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। গোলের পর বাংলাদেশ আরও কয়েকটি আক্রমণ সাজালেও ব্যবধান বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
তবে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সান মারিনো। তাদের প্রচেষ্টার ফল আসে ৩১তম মিনিটে। নিকোলাস জাকোপেত্তির গোল ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনে। এরপর উভয় দলই কিছু সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের খেলায় দেখা যায় বাড়তি আগ্রাসন ও সংগঠিত আক্রমণ। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। বিশেষ করে হামজা চৌধুরী, মোরছালিন ও অন্যান্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে একাধিক সুযোগ তৈরি হয়।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে নির্ধারক মুহূর্ত। ৮৬তম মিনিটে হামজা চৌধুরীর নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে সৃষ্ট সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তপু বর্মণ। তার এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে।
এই ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ম্যাচ। অভিষেক ম্যাচেই জয় পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সন্তুষ্ট কোচিং স্টাফ ও দলের খেলোয়াড়রা। ম্যাচজুড়ে তার কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সময়োপযোগী পরিবর্তনগুলো বাংলাদেশের খেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় পতাকা হাতে তাদের উদযাপন ম্যাচের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
