

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ল্যাটিন বা দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলে মাঠ কিংবা গ্যালারি রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার ঘটনা একেবারেই নতুন কিছু নয়। তবে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ক্যাম্পেওনাতো মিনেইরোর ফাইনালে যা ঘটল, তা যেন অতীত ইতিহাস ও নাটকীয়তার সবকিছুকেই ছাড়িয়ে গেল! খেলোয়াড়দের মিনিটখানেক ধরে একে অপরকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার এই মহোৎসব শেষে রেফারি পকেট থেকে বের করলেন ২৩টি লাল কার্ড, যা ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন বিশ্বরেকর্ড।
মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রুজেইরো ও অ্যাতলেতিকো মিনেইরো। শিরোপার লড়াই তখন একেবারে শেষ পর্যায়ে এবং ক্রুজেইরো এগিয়ে ১-০ গোলে। ইনজুরি টাইম শেষ হওয়ার মাত্র ৩০ সেকেন্ড আগে ক্রুজেইরোর স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ান ও অ্যাতলেতিকোর গোলরক্ষক এভারসনের মধ্যে একটি সংঘর্ষ হয়। এরপরই মেজাজ হারিয়ে বসেন এভারসন। একটু বেশিই আক্রমণাত্মক হয়ে ক্রিস্টিয়ানকে টেনে মাটিতে ফেলে তাঁর বুকের ওপর চড়ে বসে ক্ষোভ ঝাড়তে থাকেন এই গোলরক্ষক।
পরিস্থিতি শান্ত করতে রেফারি ছুটে এসে সমঝোতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পেছন থেকে ক্রুজেইরোর এক খেলোয়াড় এভারসনকে ধাক্কা দিলে তিনি সরাসরি গোলপোস্টে আঘাত পেয়ে পড়ে যান। আর ঠিক এরপরই শুরু হয়ে যায় আসল যুদ্ধ! দুই দলের খেলোয়াড়রা যে যাকে পেরেছেন, কিল-ঘুষি ও লাথি মেরেছেন। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, ডাগআউট থেকে বেঞ্চের খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফরাও মাঠে ঢুকে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাকর্মী ও সামরিক পুলিশের হস্তক্ষেপে মাঠে শান্তি ফেরে।
মারামারির কারণে ম্যাচ প্রায় দশ মিনিট বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর ফের মাঠে নামেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। তবে রেফারি তখন কাউকে সরাসরি বুকিং দেননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ব্রাজিলিয়ান মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই ঘটনায় মোট ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি!
এর মধ্যে ব্রাজিলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার হাল্কসহ অ্যাতলেতিকোর ১১ জন খেলোয়াড় এবং ক্রুজেইরোর ১২ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড পেয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ১৯৫৪ সালে এক ম্যাচে দেখানো ২২টি লাল কার্ডের ৭২ বছরের পুরোনো বিশ্বরেকর্ড ভেঙে গেল।
মন্তব্য করুন
