শনিবার
১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদ্-দ্বীন সখিনা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, বিক্ষোভ

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
সংগৃহীত
expand
সংগৃহীত

যশোরের পুলেরহাট এলাকার আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ইমরান বিশ্বাস নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ১১টার পর এ ঘটনায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করেন।

তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই একাধিক ইনজেকশন প্রয়োগের পর ইমরানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং পরে তার মৃত্যু হয়।

নিহত ইমরান শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গাজীপাড়ার শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যুতে স্ত্রী, ১৭ মাস বয়সী একমাত্র ছেলে এলহাম এবং স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্বজনদের দাবি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে একের পর এক ইনজেকশন দেন। প্রথম ইনজেকশনের পর থেকেই তিনি অস্বস্তির কথা জানান এবং পরবর্তী ইনজেকশন না দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু এরপরও আরও ইনজেকশন দেওয়া হয়।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইনজেকশনের পর তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে এবং তৃতীয় ইনজেকশনের পর তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

নিহতের খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, রোগীর প্রধান সমস্যা ছিল শ্বাসকষ্ট হলেও দ্রুত অক্সিজেন দেওয়ার পরিবর্তে একাধিক ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। তিনি দাবি করেন, রোগীর অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসকরা বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দেননি।

স্বজনদের আরও অভিযোগ, ইমরান মারা যাওয়ার পরও তাকে কিছু সময় আইসিইউতে রাখা হয় এবং পরে মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনেরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত একটি পক্ষ ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় এবং নিহতের মা ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসপাতালের দিকে জুতা নিক্ষেপ করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোতোয়ালি থানার এসআই জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে।

স্বজনেরা চিকিৎসায় জড়িত চিকিৎসককে উপস্থিত করার দাবি জানালেও তাদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা করেনি। পরে নিহতের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই স্যালাইনের সঙ্গে এবং ক্যানুলার মাধ্যমে একাধিক ইনজেকশন প্রয়োগ করেন।

ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তার ছেলে চিৎকার করতে শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যান বলে তিনি দাবি করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন বলেন, চিকিৎসায় তাদের কোনো ভুল হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী জরুরি বিভাগে রোগীকে দেখা হয়েছে এবং পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও তাকে পরীক্ষা করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করেন।

নিহতের স্বজনেরা চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন