

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি চাকরির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১১-২০ গ্রেড) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন যেকোনো দিন জারি হতে পারে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার। খসড়াটি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভাইভার নম্বর বাড়ানোর এ উদ্যোগ নিয়ে যখন বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও আন্দোলন চলছে, তখনই প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গত রবিবার প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার পর প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পুনর্বণ্টনের বিষয়টি সচিব কমিটির সভায় চূড়ান্ত হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত নতুন এই নম্বর কাঠামো কার্যকর হবে না। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘খসড়া প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেলে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে।’
প্রজ্ঞাপনের খসড়া বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১১ ও ১২ গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হচ্ছে। অর্থাৎ বিদ্যমান নম্বরের তুলনায় ভাইভার নম্বর বাড়ছে ৪০০ শতাংশ।
একই সঙ্গে এ দুই গ্রেডের লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৯০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। বর্তমানে লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হলেও খসড়া বিধিমালায় তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৩ থেকে ১৬ গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্তমানে লিখিত ও ভাইভায় যথাক্রমে ৯০ ও ১০ নম্বর রয়েছে। নতুন কাঠামোয় লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৬০ এবং ভাইভার নম্বর ৪০ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে ১৭ থেকে ২০ গ্রেডের চাকরিতে বর্তমানে লিখিত পরীক্ষায় ৪০ এবং ভাইভায় ১০ নম্বর রয়েছে। নতুন কাঠামোয় লিখিত ও ভাইভা—দুই পরীক্ষাতেই ২৫ নম্বর করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
খসড়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিধিমালা মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এবং এর আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থার ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
তবে শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ব্যাটালিয়ন আনসার, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বা অন্য কোনো বাহিনী এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাভুক্ত কোনো পদের ক্ষেত্রে এ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে না।

