

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ফ্রান্স ছিল অন্যতম শিরোপার দাবিদার। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলেদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে একের পর এক প্রতিপক্ষকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ছিল লে ব্লুজ। কিন্তু সেমিফাইনালে এসে সেই অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সকে থামিয়ে দিল স্পেন।
ডালাসে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লা রোহা। আর এই জয়ের পর মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দুই হাত তোলা একটি ছবি পোস্ট করেন ইয়ামাল। ক্যাপশনে তিনি লেখেন মাত্র একটি শব্দ-‘আলহামদুলিল্লাহ’। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা ভাইরাল হয়ে যায়। অল্প সময়েই লাখো ভিউ, লাইক ও হাজারো মন্তব্যে ভরে যায় পোস্টটি। স্পেনের সমর্থকদের পাশাপাশি বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবলভক্তরাও শুভেচ্ছা জানান ১৯ বছর বয়সী এই তারকাকে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল স্পেন। ম্যাচের ২২ মিনিটে ফরাসি বক্সে ফাউলের শিকার হন ইয়ামাল। লুকাস দিনিয়ের ট্যাকলে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল করেননি মিকেল ওইয়ারসাবাল। মাইক মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি।
বিরতির পর ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ এক-দুই পাস খেলে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে ফ্রান্সের জালে বল পাঠান তিনি। ছয় মিনিট পর ইয়ামালও গোল করেছিলেন, তবে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
এরপর এমবাপ্পে-দেম্বেলেরা একাধিক আক্রমণ গড়লেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা, মাঝমাঠে ছন্দহীনতা এবং রক্ষণে ভুলের মাশুল দিয়ে কোনো গোল ছাড়াই বিদায় নিতে হয় ফ্রান্সকে।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। জাভি, ইনিয়েস্তা, ক্যাসিয়াসদের সোনালি প্রজন্মের পর এবার ইয়ামাল, পেদ্রি, নিকো উইলিয়ামসদের নতুন প্রজন্মের সামনে সুযোগ ইতিহাস গড়ার।
বিশ্বকাপে এটি ছিল স্পেন ও ফ্রান্সের দ্বিতীয় মুখোমুখি লড়াই। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোতে ৩-১ গোলে হেরেছিল স্পেন। প্রায় দুই দশক পর সেই পরাজয়ের দারুণ প্রতিশোধ নিল লা রোহা।
এখন স্পেন অপেক্ষা করছে ফাইনালের প্রতিপক্ষ জানার। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে তারা। তবে ফ্রান্সকে যেভাবে পরাস্ত করেছে স্পেন, তাতে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের জন্য স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখল লা রোহা—তারা প্রস্তুত, আবারও বিশ্বসেরা হওয়ার জন্য।
