

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা মহাপরিকল্পনায় নতুন করে সক্রিয় আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। সমীক্ষা, নকশা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে বেইজিং। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের অবস্থান কি আবারও এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে?
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা মহাপরিকল্পনার শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন। সমীক্ষা, প্রকল্পের নকশা এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে অংশ নিতে চায় দেশটি।
দীর্ঘদিন ধরেই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চীন প্রাথমিক সমীক্ষার কিছু কাজ করলেও ভারতের আপত্তির কারণে প্রকল্পটি আর এগোয়নি। এরপর বিষয়টি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
এদিকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিও এখনো অমীমাংসিত। বহু বছর ধরে বাংলাদেশ এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে এলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। প্রায় এক দশক আগে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তির কারণে তা আর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
বর্তমান বিএনপি সরকার তিস্তা প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন এবং পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
সম্প্রতি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের অনুরোধেই তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নই এই সহায়তার মূল লক্ষ্য, এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীতীর সংরক্ষণ, শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হবে। পাশাপাশি রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার কৃষি উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং নদীভাঙন কমবে। নদীকেন্দ্রিক শিল্প ও পর্যটনেরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এ ছাড়া তিস্তার অতিরিক্ত প্রশস্ত অংশগুলো সংকুচিত করে গভীরতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে নদীর দুই তীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে, যা কৃষি, শিল্পায়ন কিংবা পুনর্বাসনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ শুধু অর্থায়ন বা কারিগরি সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে না। তিস্তা একটি আন্তঃসীমান্ত নদী হওয়ায় ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পানিবণ্টন ইস্যুও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবিরের মতে, তিস্তা প্রকল্প এখন কেবল একটি উন্নয়ন উদ্যোগ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণের অংশ। চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করেই বাংলাদেশকে এগোতে হবে। সেই কূটনৈতিক দক্ষতার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

